1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আমার সব থেকে বড় শক্তি হচ্ছে দেশের মানুষ “সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্ত কোনো মানুষ স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মারা যায়নি” পানসী রেস্টুরেন্টের খাবারে পোকা : হাসপাতালে ত্রাণ সহায়তা দিতে আসা ২ স্বেচ্ছাসেবক ফাইজারের পাবে টিকা ৫-১২ বছর বয়সীরা করোনায় আক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারক বিএনপির রাজনীতি এখন পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত : কাদের বন্যা দুর্গত মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দিলো সীপকস তাহিরপুরে আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্ঠা, দু’জনকে পুলিশে দিলো জনতা সুনামগঞ্জ ছাত্র ইউনিয়নের ভানবাসি মানুষদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা যতদিন বন্যা পরিস্থিতি ততদিন বানভাসিদের পাশে থাকবে বিজিবি : সিলেট সেক্টর কমান্ডার

বোরো সংগ্রহের টার্গেট অর্ধেকও পূরণ হয়নি : চাল না দেয়া মিলারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০, ১২.২৬ পিএম
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

হাওর ডেস্ক ::
চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ৩১ আগস্ট শেষ হচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ হয়নি। ৪ মাসে সারা দেশে মাত্র ১ লাখ ৯৯ হাজার টন ধান এবং ৬ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। অথচ সরকারের টার্গেট ছিল ৮ লাখ টন ধান এবং সাড়ে ১১ লাখ টন চাল সংগ্রহ করা। সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি হওয়ায় গুদামে ধান-চাল দিচ্ছেন না কৃষক ও মিলাররা। ফলে বোরো সংগ্রহে বেহাল চিত্রের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ধান-চাল সংগ্রহের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেও যেসব চালকল (মিলার) মালিক চাল দিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা করছে খাদ্য অধিদফতর।

খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) সারোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘অন্যান্য বছরের মতো এবার ধান-চাল সংগ্রহ হয়নি। করোনা ও বন্যার কারণে পরিবেশ অনেকটাই বৈরী। টার্গেটের অর্ধেকও সংগ্রহ করা যায়নি। টার্গেট পূরণ করতে হলে সংগ্রহের সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি, হয়তো প্রস্তাব পাঠাব। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়।’

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বোরো সংগ্রহের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হতে পারে। তবে এটা নির্ভর করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের সিদ্ধান্তের ওপর।

জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজিদরে ৮ লাখ টন ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজিদরে দেড় লাখ টন আতপ চাল কেনার কথা রয়েছে। ২৬ এপ্রিল থেকে ধান এবং ৭ মে থেকে বোরো চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে; যা ৩১ আগস্ট শেষ হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ২৫ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী গত ৪ মাসে সারা দেশে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৪ টন। আর চাল (সিদ্ধ) সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ২৭৯ টন, আতপ চাল ৭৫ হাজার ১৪৩ টন; যা কাক্সিক্ষত নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে খাদ্যমন্ত্রী একাধিকবার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগ্রহের গতি বাড়াতে তাগিদ দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী মিলারদের চাল দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী চাল না দিলে কালোতালিকাভুক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানি করার কথা বলতেও ভোলেননি তিনি। পাশাপাশি চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো চাল সরবরাহ করলে সরকারি প্রণোদনা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। কিন্তু কিছুতেই মন গলেনি মিলারদের।

জানা যায়, খোলাবাজারে এবার ধানের দাম বেশি। ফলে চাষীরা গুদামে আর ধান দিচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতিতে চালের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। চাল সরবরাহে মিল মালিকরা সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন। মিল মালিকরা বাজার থেকে ধান কিনে চাল তৈরি করছেন। এ কারণে বেড়ে গেছে বোরো ধানের দাম। তাই চাষীরা খাদ্য গুদামে ধান না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। তাই খাদ্য বিভাগের বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় মিলাররাও চুক্তি অনুযায়ী সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছে না বলে অভিযোগ খাদ্য কর্মকর্তাদের। মিলাররা সিন্ডিকেট করে বাজারে চালের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, চুক্তি করেও যেসব মিলার ধান-চাল দিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে ১৯ আগস্ট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ। চিঠিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত আছে। বর্তমানে দেশে সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। যেসব চালকল মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেছেন বা করবেন তাদের ইতিবাচক মূল্যায়ন করা হবে। আর চুক্তি সম্পাদনের জন্য আদিষ্ট হয়েও যেসব চালকল মালিক চুক্তি সম্পাদন করেননি তাদের লাইসেন্স স্থগিতের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। আর যেসব চালকল মালিক চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন ও সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনে অসহযোগিতা করছেন- সংগ্রহ মৌসুম শেষ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে চুক্তিপত্র ও চালকল লাইসেন্স ইস্যু সংক্রান্ত বিধিবিধানসহ প্রাসঙ্গিক আইনি বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম লায়েক আলী বলেন, ‘করোনাভাইরাস, এবং লাগাতার বৃষ্টি-বন্যা এবার ধান চাল সংগ্রহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে ধানের স্বল্পতা ছিল। বাজার থেকে এখন চাল কিনে গুদামে দিলে আমাদের কেজিপ্রতি ৪ টাকা লোকসান দিতে হবে।’ ধান-চাল সংগ্রহের টার্গেট পূরণে ১ মাস সময় চেয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়া ভালো হলে ও সেপ্টেম্বর মাস সময় দিলে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করব। এখন সরকার যদি আমাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়, চুক্তি অনুযায়ী তা নিতেই পারে। তবে এ ব্যর্থতা থেকে উত্তরণে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!