1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
নিয়ম বহির্ভূত ফি ফেরত দিচ্ছে সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি গার্লস হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা নাসিক প্রমাণ দিল দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব শাবিপ্রবি শিক্ষকদের সাথে সন্ধ্যায় আলোচনায় বসবেন শিক্ষামন্ত্রী অনশনের ৬০ ঘণ্টা: মুখে স্যালাইনও নিচ্ছেন না, বাড়ছে ঝুঁকি শাবিপ্রবিতে অনশন: ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি শাবি’র সংকটে সাস্টিয়ান সুনামগঞ্জ এর উদ্বেগ শাল্লায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় মামলার আসামি হলেন চেয়ারম্যান বৃটিশ মন্ত্রী-এমপির উপস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, র‌্যাব সৃষ্টি করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে আমেরিকা-বৃটেন! বাংলাদেশসহ ১০৫ দেশ করোনার পিল কম দামে পাচ্ছে

সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জের ৪ ইউনিয়নে জামানত হারালেন আ. লীগ প্রার্থী

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ৩.৫৬ পিএম
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের একটিতেও বিজয়ী হতে পারেননি আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী। জামানত হারিয়েছেন তিনজন। তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ৭টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্ধিতা গড়ে তোলতে পারেননি নৌকার প্রার্থীরা। এই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। জেলা সদর আসনে এমপি না থাকা, যোগ্যদের মনোনয়ন না দেওয়া, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ তৃণমূলের ত্যাগীদের মূল্যায়ণ না করায় সদরে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার উত্তম কুমার রায় বলেন, মোট বৈধ ও অবৈধ কাস্টিং ভোটের ৮ ভাগের একভাগ ভোট পেলে জামানত বহাল থাকে। এর কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ৪জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
কাঠইর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট বুরহান উদ্দিনও জামানত হারিয়েছেন। এই ইউনিয়নে খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ের প্রার্থী মাওলানা মো. শামসুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. ফারুক মিয়া। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মো. বুরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৩০ ভোট। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত দুই বিদ্রোহী প্রার্থী আজিজুর রহমান তালুকদার ও আব্দুল মতিন পেয়েছেন যথাক্রমে ৮৫৭ ও ১ হাজার ৪৪১ ভোট। এই ইউনিয়নে ভোট কাস্ট হয়েছে ৯ হাজার ৫৮ ভোট।
গৌরারং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালমা আক্তার চৌধুরী জামানত হারিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৯৫০ ভোট। এই ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শওকত আলী। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৩২ ভোট। জাতীয় পার্টির বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি অটোরিক্সা প্রতীকে ৪ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ইউ ইউনিয়নে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ২০ হাজার ৩২১।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে জামানত হারিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনির উদ্দিন। তিনি মাত্র ৭৬৪ ভোট পেয়েছেন। এই ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক। তিনি মোটর সাইকেল প্রতীকে ৩ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম। তিনি ঘোড়া প্রতীকে ৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এই ইউনিয়নে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ১২ হাজার ২৬২।
সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আমির হোসেন রেজা চশমা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। মোহনপুর ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মোটর সাইকেল প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো. মঈন উল হক। তবে ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে মোহনপুর, কোরবাননগর ও জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নেই নৌকার দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা গড়ে তুলেছেন। বাকিটিতে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে তারা কোন প্রতিদ্বন্ধিতা গড়ে তোলতে পারেনি।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল অদুদ, রঙ্গারচর ইউনিয়নে জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল হাই, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুর রশিদ, কোরবান নগর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আবুল বরকত নির্বাচিত হয়েছেন।
সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের এই ভরাডুবি নিয়ে হতাশ তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন বাণিজ্য, ত্যাগীদের অবমূল্যায়ণ, যোগ্যদের মনোনয়ন বঞ্চিত করা, বিদ্রোহীদের থামাতে ব্যর্থ হওয়া এবং জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলকে দায়ি করেছেন তারা। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ সদর আসনে দলীয় এমপি না থাকায় তৃণমূলের উন্নয়ন বঞ্চিত নেতা কর্মীরা দলীয় প্রার্থীদের দিকে থাকানটি বলে জানিয়েছেন অনেকে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ অপু বলেন, কোন্দল ও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে না পারায় এক সময়ের নৌকার দুর্গে ডুবেছে নৌকা। এতে আমরা হতাশ। অবিলম্বে দলীয় কোন্দল মিটমাট করা না হলে আরো খারাপ অবস্থা হবে।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম বলেন, গত ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। আমাদের দুর্ভাগ্য জেলা সদর হয়েও আমাদের দলীয় কোন এমপি নেই। এ কারণে আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত। নিজেদের এমপি না থাকায় তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীরাও নানাভাবে বঞ্চিত ও নির্যাতিত। এ কারণে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। আগামীতে সদর আসনে দলীয় এমপি না দিলে অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়নে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট দেবাংশু শেখর দাস।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!