1. haornews@gmail.com : admin :
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হান্নান খান আর নেই তাহিরপুরে পুত্রের হাতে পিতা খুন! দিরাই পৌর নির্বাচন: নৌকার বৈঠা ওঠলো মেয়র প্রার্থী বিশ্বজিতের হাতে শাল্লায় স্ত্রী ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ শহিদ মিনারে স্বামী সন্তানদের মানববন্ধন ২৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা বিশ্বম্ভরপুরে স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্ম বিরতি পালন সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া।। তৎপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা যারা ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে তারা ভ্রান্তিতে আছে : সেতুমন্ত্রী তাহিরপুরে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি ১০ বছরে সরকারি খরচে সাড়ে পাঁচ লাখ দরিদ্র-অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তা

রাজনীতি ও জননেতৃত্ব : একজন ত্রিকালদর্শী আব্দুস সামাদ অজাদ।। এইচ রায়

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০, ৬.৩০ পিএম
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিশাল ভূমিকা রয়েছে। নিম্নবিত্ত শ্রেণী ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মাঝামাঝি থেকে একটি ভারসাম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। শিক্ষায় অগ্রসরমান থাকায় সমাজের বিচ্যুতি সহজেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দৃষ্টিগোচর হয় এবং এর প্রতিকারের জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে এ শ্রেণী। সামাজিক সম্পৃক্ততায় তাদের সুবিধাজনক অবস্থান এক সময় তাদের নিয়ে যায় রাজনীতির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে। রাজনীতির উত্তম অর্জনগুলো এ শ্রেণীর হাত ধরেই এসেছে। ভারত ছাড় আন্দোলন এবং পাকিস্তান গঠনে বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী কার্যকর ভূমিকা ইতিহাসে অনস্বীকার্য। এই নিম্ন মধ্যবিত্ত তথা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতেন বঙ্গবন্ধু ও আব্দুস সামাদ আজাদরা।

সামাদ অাজাদ বৃটিশ শাসনামলে ছিলেন সিলেট অঞ্চলের সক্রিয় ছাত্রনেতা। তখন সিলেট বিভাগ ছিল অাসাম প্রভিন্সের অধীনে। ১৯৪০ সালে তিনি অধিকার অাদায়ের অান্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে সুনামগঞ্জ মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হন। পরবর্তীতে হন অাসাম প্রভিন্স মুসলিম ছাত্রফেডারেশনের সভাপতি। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় অান্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।
কিন্তু পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র গঠণের পরপরই, পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক এলিট, সামন্তপ্রভু এবং পূর্বপাকিস্তানী (তথা আজকের বাংলাদেশে) জোতদার, জমিদার, ব্যবসায়ী শ্রেণী ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের নেতৃত্ব করায়ত্ব করে। ফলে পূর্বপাকিস্তানের সাধারণ জনগণ মুথোমুখি হয় চরম বঞ্চনার। এর কারণ মুসলিম লীগে এদেশীয় মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে নেতৃত্ব থেকে সড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণী শোষণের বিরুদ্ধে অচিরেই সংগঠিত হয় মাওলানা ভাষানী, শামসুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। তখন বৃহত্তর সিলেটে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সিলেট অঞ্চলে কায়েমী শক্তি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গড়ে তোলে ছিলেন এক দুর্বার আন্দোলন। তিনি এ অঞ্চলে রাজনীতিকে জমিদার শ্রেণীর বৈঠকখানা থেকে উদ্ধার করে গ্রামের হাট, বটতলা, মহকুমার চৌরাস্তার মোড়ে সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই মোহমুক্তি ঘটে বাঙ্গালীর। ১৯৫২ সালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে বাঙ্গালী প্রথম বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার বীজতলা সিঞ্চন করে। বাঙ্গালীর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনেতা বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার মর্যাদা অর্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠির জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেন জাতীয় নেতারা। আব্দুস সামাদ আজাদ কৌশলপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন। তাঁর সিদ্ধান্তমতে ঢাকা ভার্সিটির বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দশ জনের দলের বিভক্ত হয়ে মিছিল বের হয়ে রাজপথে মিলিত হয়ে বড় মিছিলে পরিণত হয়। তাঁর এই কৌশলে পাকিস্তানীরা মার খায় মিছিল করতে না দেয়ার কৌশলে।
১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের সকল প্রগতিশীল নেতারা “যুবলীগ” ( বর্তমান যুবলীগ নয়) নামে একটি সংগঠন সৃষ্টি করেন, এক সময়ে এই সংগঠনের সভাপতি হন অাব্দুস সামাদ অাজাদ।
পরবর্তীতে তিনি অারেক জাতীয় নেতা মুনাওর অালী সাহেবের সাথে গণতন্ত্রী পার্টি নিয়ে সিলেট অঞ্চলে মুসলিম লীগকে বিতাড়ন করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে সিলেট অঞ্চলে গণতন্ত্রী পার্টি দখল করে কৌশলপূর্ণভাবে গুরুত্ব বহণ করে এমন সকল আসন। এই দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ। আব্দুস সামাদ আজাদকে চিনতে ভুল করেননি বঙ্গবন্ধু। তাঁকে ডেকে নিয়ে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক। পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধ আন্দোলনে নেতৃত্বদানের দায়ে বঙ্গবন্ধু তখন এই বাহিরে তো এই জেলে। তখন পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা দলগুলোর মোর্চাকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গঠিত সম্মিলিত প্লাটফর্মের দপ্তর সম্পাদক করা হয় আব্দুস সামাদ আজাদকে।
এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারকে নানাভাবে সহযেগিতা করেন এবং স্যাডো পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে সফর করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠণ করেন। জনশ্রুতি আছে বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাকের পাকিস্তান কনফেডারেশন কনস্পিরেসি ভেস্তে দিতে রাখেন সক্রিয় ভূমিকা। এর স্বীকৃতি হিসেবে জননেত্রী শেখ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠণের পর তাঁকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ সেই সব বিরল নেতাদের একজন, যারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে আমৃত্যু পাশে থেকে আগলে রেখেছেন জাতির পিতার নীতি, আদর্শ ও উত্তরসূরী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর, যখন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সিএসপি আমলা খন্দকার মোশতাকের আনুগত্য স্বীকার করে বঙ্গবন্ধুর রক্ত মাড়িয়ে মোশতাকের দরবারে শোভা হন, তখন জীবনবাজি রেখে মোশতাকের আনুগত্য স্বীকার করেননি জাতীয় চার নেতাসহ আব্দুস সামাদ আজাদ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সন পর্যন্ত ছিলেন কারা অন্তরীন। জেল থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক অবিভাবকহীন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তাঁর পাশে আমৃত্যু থাকেন।
তাঁর রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক দক্ষতা ছিল সর্বজন প্রশংসনীয়। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতায় গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তাঁর দূতিয়ালিতে প্রথম কোন মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করেন। আজকের তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে জটিলতায় তাঁর অভাব বোধ করছে রাষ্ট্র।
এই সাধারণ মানুষ থেকে উঠে আসা জাতীয় নেতাকে শেষ নির্বাচনে ২০০১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক- দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ- বিশ্বম্ভরপুর আসনের (৩টি সংসদীয় আসনের) দায়িত্ব দেন এবং সুরঞ্জিত সেনকে দেন দিরাই-শাল্লা ও ধর্মপাশা- জামালগঞ্জ- তাহিরপুর আসনের (২টি সংসদীয় আসনের)।
সুরঞ্জিত সেন দুটি নির্বাচনে নিজেই নির্বাচন করেন। সেই সময় ইচ্ছে করলে আব্দুস সামাদ আজাদ যে কোন একটি আসনে তিনি নিজে এবং অপর একটি আসনে তাঁর ছেলেদের কাউকে নৌকার মনোনয়ন দিতে পারতেন। সে সময় তাঁর উপর এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মি ও পারিবারিক চাপ ছিল। কিন্তু তিনি কোন ডাইনেস্টি সৃষ্টি করেননি। তিনি বলেছিলেন নেতা হতে হলে মাঠ থেকে কষ্ট করে উঠে আসতে হবে। তিনি তাঁর নিজের আসন বাদে অপর দুটি আসন ছেড়ে দেন। তাঁর এই অবিচল নীতির প্রতি স্যালুট জানাই।
আব্দুস সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধু সরকার ও জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সংসদে বিরোধী দলীয় ডেপুটি লিডার এবং একজন জাতীয় নেতা ছিলেন। আমৃত্যু নীতিকে আকড়ে ছিলেন। অর্থের কারনে নীতি বিসর্জন দেননি। তাই তাঁর মৃত্যুকালে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বিক্রয় করতে হয় ঢাকার একটি প্লট। ব্যাংক ঋণ মেটাতে বিক্রয় করতে সিলেটের বাড়ি। আজকের রাজনীতিতে যা অবিশ্বাস্য।
আজকের প্রজন্মকে তাঁকে জানতে আহবান জানাই।
আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছে সারাদেশে অসংখ্য সাধারণ মানুষের ভালবাসা, আবেগ নিয়ে। নেতারাও উঠে এসেছিলেন সাধারণের মাঝ থেকে। দল ও কর্মিদের সাথে ছিল নেতাদের নাড়ীর টান। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগে ঢুকতে থাকে নীতিহীন বাম, বর্ণচোরা ডান, ব্যবসায়ী অবসরপ্রাপ্ত আমলা। ফলে দলে সংকুচিত হয়ে আসে দলের অক্সিজেন হিসেবে খ্যাত সাধারণ নেতাকর্মিদের অবস্থান। দলের ভবিষ্যত দুদর্শা দেখতে পেয়েছিলেন বৃটিশ- পাক- বাংলাদেশ এই ত্রিকালদর্শী নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ। সেদিন দলের ত্যাগী নেতাকর্মিদের দরদে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঝুকিতে ফেলে সিলেটের রাজপথের জনসভায় আওয়ামী লীগে “কাউয়া ” ঢুকেছে বলে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। সেদিনকার তাঁর সতর্কবার্তা অাজকের দিনে রূঢ় বাস্তবতা।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!