1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০২:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
করোনায় একদিনে ভারতে মারা গেলেন ৫০ চিকিৎসক ভারতে সব রেকর্ড ভেঙে একদিনে ৪৩২৯ প্রাণহানি রোজিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দেশে বিশেষ অভিযান চালাবে ইন্টারপোল সভাপতি-সেক্রেটারি ছাড়াই শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করলো সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে যুবলীগের আলোচনা ধর্মপাশায় বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেল ২ কিশোরী দিরাইয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে স্বামীর আত্মহত্যা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন অপশক্তিকেই ছাড় দেননি: এমপি মানিক তাহিরপুরে শশুর বাড়িতে এসে পানিতে ডুবে জামাইয়ের মৃত্যু

দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪.২৬ এএম
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

হাওর ডেস্ক ::
সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন– বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন, দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর সেই দেবী দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায়ও নেবেন ঘোড়ায় চড়েই।
হিন্দু পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় বসন্তকাল; কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করেন। সেই থেকে অকালবোধন হওয়া সত্ত্বেও শরৎকালেই দুর্গাপূজা প্রচলন হয়ে যায়।
সারাদেশে এবার ৩১ হাজার ১০০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পূজার জন্য রাজধানীতে প্রস্তুত হচ্ছে ২৩৭টি মণ্ডপ। মণ্ডপগুলোতে নেওয়া হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও এলাকাভিত্তিক পূজা কমিটির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহালয়া পালিত হবে। আর সেই থেকেই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ সময় হবে বিশেষ পূজা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর ৩ অক্টোবর গোধূলিলগ্নে দেবীর বোধন, ৪ অক্টোবর সকালে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আয়োজন। এদিন গোধূলিলগ্নে দেবীর আগমন ঘটবে। মহাসপ্তমীতে সকাল থেকে পূজা চলবে, এছাড়া দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনও করা হবে। এদিন দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। মহাষ্টমীতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা, দুপুরে সন্ধিপূজা এবং বিকালে মহাপ্রসাদ বিতরণ হবে। নবমীতে সকাল থেকে পূজা চলবে, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা হবে। বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই পূজা হবে এবং বিকালে হবে বিজয় শোভাযাত্রা।
বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহাআরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। শীতল ভোগের আয়োজন করা হয় সেদিন। এরপর পণ্ডিত পূজা শুরু করেন।
সর্বশেষ যে রীতিটি পালিত হয়, এর নাম ‘দেবী বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে ‘দুর্গা-মা’কে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। দুর্গাকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুর তারা একে অপরের মুখে মাখেন। এই সিঁদুর মাখার রীতি অনেক সময় দশমীঘরে পালন করা হলেও অনেকে এটি নিজ ঘরেই করে থাকেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, গত বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার মধ্যে রাজধানীতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৩৪টি মণ্ডপে। ২০১৭ সালে সারাদেশে ২৯ হাজার ৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং রাজধানী ঢাকায় মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ২২৫টি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার সারাদেশে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। আমরা প্রতিদিনই তালিকা হালনাগাদ করছি। প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমরা ৩০ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদ সম্মেলন করবো। সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে।’
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে আমরা তাতে শঙ্কিত নই। পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত ভালো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। তবে, এজন্য সবাইকে সমন্বিতভাবেই কাজ করতে হবে।’
এদিকে, দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মণ্ডির, জগন্নাথ হল, কলাবাগান মাঠ, খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ, বনানী মাঠ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বাড্ডাসহ রাজধানীর সবকটি পূজা মণ্ডপের কাজ পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজার দায়িত্বে রয়েছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। পঞ্চমীর দিন প্রস্তুত হয়ে যাবে। ৪ তারিখ থেকে পূজা শুরু হবে। বাইরের যে আলোকসজ্জা প্রতিবার করা হয় তা হয়ে যাবে যথাসময়েই। মণ্ডির প্রাঙ্গণে এবার মেলা হবে স্বল্প পরিসরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মন্দিরের যে জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে পূজার আনুষঙ্গিক জিনিসের দোকান করতে দেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে মেলা বসানোর অনুমতি নেই। তবে আমরা বলেছি এই দোকানগুলো অন্তত করতে দিতে। আর কেউ যদি কোনও ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বলেছি আমাদের পক্ষ থেকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সপ্তমীর দিন প্রধানমন্ত্রী আসবেন আমাদের এখানে। সবকিছু সুন্দরভাবেই অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।’
প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির প্রেসিডেন্ট অমর কৃষ্ণ পোদ্দার বলেন, ‘প্রস্তুতি চলছে পুরদমে। জায়গা অনুযায়ী এবার একটু অন্যভাবে আয়োজন করতে হচ্ছে আমাদের। মাঠে জায়গার সমস্যা আছে। দেবী এবার ঘটকেই আসবেন এবং ঘটকেই যাবেন। শনিবার মহালয়া, সেজন্য সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ৪ তারিখ পূজার উদ্বোধনীতে আসবেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং পরদিন আসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।’
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, সারাদেশে ৫ অক্টোবর থেকে মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে তিন লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, মণ্ডপে সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিক্টেটর থাকবে। পূজামণ্ডপে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা সজাগ থাকবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মণ্ডপের আশপাশে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকবে। এছাড়া, নারী স্বেচ্ছাসেবক দল, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উপস্থিত থাকবে। পূজার সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। জেলা সদর ও উপজেলা সদরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা ৯৯৯ সার্ভিস আরও কার্যকর থাকবে। যেকোনও সমস্যায় এখানে ফোন দিলে সেবা পাওয়া যাবে।’
তিনি আরও জানান, প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সে সময় উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড ও সীমান্তে বিজিবি উপস্থিত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!