বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে প্রায় চারঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহষ্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। এসয় গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট থমথমে ছিল। জামায়াতের ইউনিয়ন অফিস ও বিএনপি নেতার পেট্টল পাম্প ভাংচুরসহ কয়েকটি দোকান ভাংচুর ও যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্ষুব্দ ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের হাতে তিন সাংবাদিক হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা সভাপতি মোশাহিদ আলী। অন্যদিকে দুই গ্রুপের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় উত্তেজনা চলছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী, ছাত্রদল ও জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশের ন্যায় গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে নবীণদের ওরিয়েন্টেশন শুরু হয়। অনুষ্ঠান পরবর্তী ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে সুনামগঞ্জ সিলেট সড়ক ও ছাতক গোবিন্দগঞ্জ সড়কে অবস্থান নিয়ে ট্রায়ার জ্বালিয়ে ও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। প্রায় চারঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় ক্ষুব্দ ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের পেট্টল পাম্প ভাংচুর করে। ছাত্রদলও গোবিন্দগঞ্জে অবস্থিত সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের অফিস ভাংচুর করে। এসময় কয়েকটি দোকান ও যানবাহনও ভাংচুর করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এসময় ছাত্রদলের লিকসন আহমদ, মাসুক, এসআর তানিম শুভ, জাকির হোসেন নাহিন, এনাম আহমদ অভি, নয়ন আহমদ, মাছুম, সিফাত, ছাদ মিয়া, মেহেদি ইসলাম, তানিম, সাদিকুর রহমান, খলিলুর রহমান ফয়সল,আলী,সাব্বির ১, সাব্বির ২, রানা, রুমন, রেদওয়ান আহমদ, মিরসাদ,রাজন, মোহাম্মদ হাসান, মাসুক রানা, সাদিক,আব্দুল আমিন এবং ছাত্র শিবিরের কলেজ শিবির সেক্রেটারি মাহফুজ, উপজেলা শিবির সেক্রেটারি নাঈমসহ তাদেরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় পুরো পয়েন্ট জুড়ে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করে। ভয়ে অনেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। গাড়ি চলাচল থমকে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। উত্তেজনার কারণে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পুুলিশ মোতায়েন করা হযেছে।
ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তেজনার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সাংবাদিক মোশাহিদ আলী, এআর সায়েম ও লোকমান আহমদ ছাত্রশিবিরের ক্ষুব্দ নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন হেনস্তার শিকার সাংবাদিক মোশাহিদ আলী।
গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুনেদ আহমদ বলেন, ছাত্রদল আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। আমরা শিক্ষা বান্ধব কর্মসূচি নিয়ে নবীণদের বরণ করেছিলাম। এ কারণে আমাদের উপর হামলা চালায় ছাত্রদল। তারা ক্যাম্পাসকে অস্ত্রাগারে পরিণত করতে চায়। আমরা সেটা হতে দেবনা। ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহবুব আহমেদ বলেন, আমরা ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাস থেকে নাশকতাবিরোধী মিছিল দিয়ে বাইরে বেরুনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এসময় ছাত্র শিবির আমাদের মিছিরে বাধা দেয় এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে। এক পর্যায়ে শিবির দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সড়কে এসে যানবাহন, দোকানপাট ভাংচুর করে। আমাদের বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের পেট্টল পাম্পে ভাংচুর ও লুটপাট করে। তারা গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ক্যাম্পাস ও এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখতে চায়।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তারেক মিয়া বলেন, গোবিন্দগঞ্জ কলেজকে ছাত্রশিবির অস্ত্রের ক্যাম্প বানাতে চায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ক্যাম্পাস দখল করে অরাজকতা ও নাশকতা করতে চায়। তাই ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। তাদের সন্ত্রাসের জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।