স্টাফ রিপোর্টার::
সদর উপজেলার নতুন ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে ভুল চিকিৎসায় আয়ের একমাত্র সম্বল সুস্থ গাভী হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক চঞ্চল কুমার দাস। কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনিশিয়ানের চরম অবহেলা ও ভুল পদ্ধতির কারণে গাভীটি মারা গেছে এমন অভিযোগ তুলে সুবিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
২২ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তারপাড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই আকুল আবেদন জানানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চঞ্চল কুমার দাসের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার বড় ভাই বিনয় ভূষণ দাস।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সামান্য একটি গাভী পালন করে চঞ্চল দাসের পাঁচজনের সংসার চলত। এটিই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানোর সম্বল। গত শুক্রবারে গাভীটির গর্ভ পরীক্ষার জন্য এআই টেকনিশিয়ান আক্তার হোসেন চঞ্চল দাসের বাড়িতে আসেন। ১ হাজার টাকার চুক্তিতে পরীক্ষা করার নামে ওই টেকনিশিয়ান চরম নিষ্ঠুরতা ও ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে গাভীটি তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। গাভীটির বাজারমূল্য আনুমানিক ১,৫০,০০০ (এক লাখ ৫০ হাজার) টাকা। বর্তমানে মাতৃহীন ছোট বাছুরটি দুধের অভাবে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রান্তিক কৃষকের এই অপূরণীয় ক্ষতির বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান ৩টি দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অভিযুক্ত অদক্ষ এআই টেকনিশিয়ান আক্তার হোসেনের সরকারি সনদ ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের অনুমতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আয়ের পথ হারিয়ে ঋণে জর্জরিত হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকের ১,৫০,০০০ টাকা ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায়ের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। জেলা প্রশাসক, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত এআই টেকনিশিয়ান আক্তার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সঠিকভাবে চিকিৎসা দিয়েছি। গাভী কেমনে মারা গেল তা আমি জানি না।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মেম্বার আব্দুল মান্নান। এছাড়া গ্রামবাসীর পক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুভ দত্ত, অপূর্ব দাস, আব্দুল হেকিম, অসিত দাস, জয় দাস, বিন্দু দাস, স্বপ্নীল দাস, অঞ্জন দাস, বিমল দাস এবং জোতিষ সেন।