স্টাফ রিপোর্টার::
হাওরের জনপদ মদ্যনগর উপজেলার কামাউড়ার
‘পূবের বাড়ি’ নামটি হয়তো স্থানীয়দের খুবই পরিচিত। সেই বাড়ির মানুষদের খুঁজতেই প্রায় চার দশক পর সুনামগঞ্জবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভারতের আসামে বসবাসরত একটি পরিবারের সদস্যরা।
প্রায় ৪০ বছর আগে হৃদয়বিদারক এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সুনামগঞ্জ ছেড়ে ভারতে চলে যান কুমু তালুকদার ও তাঁর পরিবার। বর্তমানে কুমুর বয়স ৮০ বছরের বেশি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও শৈশবের স্মৃতি, জন্মভিটা, ভাইবোন ও স্বজনদের কথা আজও ভুলতে পারেননি তিনি। আপনজনদের কথা মনে পড়লেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শৈশবের স্মৃতি, চেনা স্বজন, মাটঘাট, হাওরের স্মৃতি জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কড়া নাড়ছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমুর বাবার নাম কুলেশ্বর তালুকদার এবং মায়ের নাম জানোকি। তাঁদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর, কামাউরা এলাকায়। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘পূবের বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল।
কুলেশ্বর ও জানোকির সাত সন্তানের মধ্যে ছিলেন মাখন তালুকদার, কিরণ তালুকদার, রবীন্দ্র তালুকদার, পার্বতী, রেবতী, হারাইল ও কুমু। কুমুর বিয়ে হয়েছিল নিউতপুর গ্রামে।
পরিবারের তথ্যমতে, কুমুর জ্যাঠাতো ভাই ছিলেন বাদল তালুকদার ও ঈশ্বর তালুকদার। ভাতিজাদের নাম রমেশ, সুরেশ, হিতেন্দ্র ও গণেশ। তাঁর তিন কন্যা শিলা, প্রতিমা ও সেতু। কুমুর বড় এক বোনের বিয়ে হয়েছিল সারকোণা গ্রামে এবং আরেক বোনের বিয়ে হয়েছিল ধনুম গ্রামে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কুমুর হারিয়ে যাওয়া স্বজন ও জন্মভিটার সন্ধান করছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না।
তাঁদের বিশ্বাস, সুনামগঞ্জের কেউ হয়তো এখনো ‘পূবের বাড়ি’ ও তালুকদার পরিবারকে চেনেন কিংবা তাঁদের উত্তরসূরিদের সম্পর্কে জানেন।
তাই সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতি তাঁদের আকুল আবেদন কুলেশ্বর তালুকদারের পরিবার, ‘পূবের বাড়ি’ কিংবা কুমু তালুকদার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দয়া করে যোগাযোগ করুন।
একটি তথ্য, একটি স্মৃতি কিংবা একটি পরিচয় হয়তো চার দশক ধরে বিচ্ছিন্ন একটি পরিবারকে আবারও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। কুমু স্বজনদের দেখা পেয়ে আনন্দে ভাসতে পারেন।
আসাম থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফেসবুকে এমন পোস্ট দিয়েছেন তার নাতনি।
https://www.facebook.com/share/1DH3tVVLRX/