1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন

কম কাজের বেশি বিল নিতে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে খিস্তিখেউড় করলেন চেয়ারম্যান সাহেল

  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১৮, ৮.২৩ এএম
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

ডেক্স রিপোর্ট::
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের অতিরিক্ত কাজের বিল দেওয়ার দাবিতে সুনামগঞ্জের ছাতক ইউনিয়নের সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান ও একাধিক মামলার আসামী আওয়ামী লীগ নেতা শাহাব উদ্দিন সাহেল ৫ জন পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সদস্যকে নিয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাঁর কক্ষে ৫০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন। পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে অশালিন আচরণ, পাউবো’র একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় এসময়। পুরো বিষয়টি ফেইস বুক লাইভে সম্প্রচার করেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সাহেল। তার এমন উদ্ধ্যত্বপণায় বিষ্মিত হয়েছে প্রশাসন। লাইভে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায় চেয়ারম্যান সাহেল ছিলেন আক্রমণাতœক। ইউএনও ছিলেন অনেকটা অসহায়। তবে লাইভে চেয়ারম্যান জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
দুপুর ১ টা ১৮ মিনিটে ছাতকের চাউলির হাওরের পিআইসি সভাপতি লুৎফুর রহমান, আরজক আলী, রামানন্দ সুত্রধর, আব্দুর রহিম এবং পিআইসির সম্পাদক হাসিদ আলীকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন সাহেল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে মেঝেতে বসে ফেইস বুকে লাইভ সম্প্রচার করে তিনি সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন,‘আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য এখানে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলাম, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরবো না।’ শুরুতেই তিনি বলেন, ‘ছাতকের চাউলির হাওরে ৫৭ লাখ বরাদ্দ হয়েছিল, এটি কার ইশারায় কেটে নেওয়া হয়েছে জনগণ জানতে চায়। উচ্চস্বরে তিরি লাইভে কথা বলার সময় বলেছেন,‘আমরা জনগণ মাটিতে বসে আছি, আর চেয়ারে যারা বসে আছেন তারা জনগণের টাকা নিয়ে নোংরামি করছেন।’ চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সাহেল এসময় বলেন,‘উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটিতে প্রেসক্লাবের কথিত সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং এমপির প্রতিনিধি সৈয়দুর রহমানসহ কয়েকজন দুর্নীতিবাজকে সদস্য করা হয়েছিল। তাদের সহযোগিতায় দুর্নীতি হয়েছে।’ তিনি উপজেলা কাবিটা মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের সামনেই বলেন,‘তুই কালপ্রিট, দালাল, রাজাকার, কুত্তা তোর চর্বি হয়েছে।’ এসময় উপস্থিত সকলেই নিরব ছিলেন।’ ৪৭ মিনিটের ফেইস বুক লাইভের সময় দেখা গেছে এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিষার চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে নিয়ে সাহেলকে চেয়ারে বসান। ওখানে বসেও মাঝে মাঝে শাহাব উদ্দিন সাহেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাছিরুল্লাহ খান, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী সাহাদাৎ হোসেনকে তিরস্কার করছেন। তাঁর এই ফেইস বুক লাইভ বৃহস্পতিবার পুরো জেলায় ছিল আলোচনার বিষয়। শাহাব উদ্দিন সাহেল লাইভে বলেন, ‘ছাতকের পুলিশকে জানিয়ে আমি এখানে অবস্থান নিয়েছি।’
প্রায় ৫০ মিনিট পর ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও জেলা পরিষদ সদস্য আজমল হোসেন শাহাব উদ্দিন সাহেলসহ অন্যদের তুলে আনেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাহাদাৎ হোসেন বলেন,‘উপজেলা কাবিটা মনিটরিং কমিটির সভা থেকে ফিরছিলাম, ইউএনও সাহেব ফোন দিয়ে ফিরিয়ে নেন। ওখানে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সাহেলসহ কয়েকজন। আমি ওখানে কোন কথা বলতে চাইলেই গালি-গালাজ করা শুরু হয়। পরে আমি নিরব থেকেছি। চাউলির হাওরের ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর পিআইসির কাজ ছিল ৮৩০ মিটার। আমরা সেটুকুর মধ্যে যেটুকু কাজ হয়েছে, পরিমাপ করেছি এবং প্রায় ১৯ লাখ টাকার কাজের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এখন তারা পুরো বিল এবং আরও ৩৪০ মিটার বেশি কাজ করিয়েছেন দাবি করে সেটুকুরও বিল চাচ্ছেন। আমরা নিয়ম মোতাবেক বিল চাওয়ার কথা বলেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দরখাস্ত দিতে বলেছি। ফেইস বুকে লাইভ দেখে এ বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে চেয়েছিলেন, আমি জানিয়েছি।’ তিনি জানান, কাজ না করিয়ে জোরপূর্বক অতিরিক্ত বিল নিতে চাইছেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাছিরুল্লাহ খান বলেন,‘এ বিষয়ে আমার মুখ থেকে নয়, ফেইস বুক লাইভ থেকেই আপনারা জানতে পারবেন। ছাতকে কোন সরকারি কর্মকর্তা থাকতে চান না, এটি অনেক দিনের বিষয়। আচরণ যার যার পরিবার থেকে শেখার বিষয়। আমি পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।’
ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন,‘উপজেলার একটি সভায় পুলিশ গিয়েছিল, এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বললেন,‘ কেউ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বেআইনি অসদাচরণ করলে এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান সাহেল বরাবরই উপজেলার বিভিন্ন সভায় আক্রমণাতœক অববস্থান নিয়ে খিস্তিখেউড় করেন বলে অভিযোগ আছে। তিনি বেশ কিছুদিন আগে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সভা থেকে বের হওয়ার সময়ও মারধর করেন। গত বছর পুলিশ লাইনসেও তিনি এক চেয়ারম্যানের উপর চরাও হয়েছিলেন। তার বিতর্কিত কর্মকা-ে ইউনিয়নের সুধীসমাজ প্রায়ই বিব্রতবোধ করেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর)

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!