1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
যাদুকাটা নদীতীরের বড়গোপটিলায় ‘পা*গলিকে ধ*র্ষণ: অভিযুক্ত মাদক কারবারি সাইদুলকে গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জে লতিফা কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্টানে ইতালী প্রবাসীর মানিব্যাগ চুরি: চোরকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের আহ্বান সুনামগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নানা আয়োজন সুনামগঞ্জে উদ্ধার হওয়া এই শিশু কন্যার অভিভাবকের সন্ধান চাইছে পুলিশ জু্বিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শ্যামারচরে ১৩শ পিস ইয়াবাসহ ইয়াবা ডিলার শিশ আহমেদ গ্রেফতার দিরাইয়ে নদী থেকে চারদিন পর নিখোঁজ গৃহকর্মীর লা/শ উদ্ধার ডাবর পয়েন্টে দুর্ঘটনায় ‘সুনামগঞ্জ-ল, ১১-১৬৪২’ নম্বরধারী বাইকের অজ্ঞাত যুবক নিহত: স্বজনদের সন্ধান দিতে অনুরোধ সুনামগঞ্জে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

আগুন! সচেতনতাই বাঁচাতে পারে জীবন

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৮, ১২.১২ পিএম
  • ৬৪৮ বার পড়া হয়েছে

ডা: এম. নূরুল ইসলাম:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পেছেনের ডরমিটরীর তৃতীয় তলার একটি রুমে আছি আজ প্রায় ১৯ মাস ধরে। রুমটি বার্ন ইউনিটমুখী আর খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রায় সব সময় বার্ন ইউনিটে আগুনে পুড়া রোগির করুণ চিৎকার-চেঁচামেচি শুনা যায়। বিশেষে করে আগুনে পুড়া শিশুদের যখন ড্রেসিং করানো হয় তখন তীব্র ব্যাথার যন্ত্রনায় তাদের করুণ চিৎকারে আশপাশ,আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অনেক সময় স্বজনদের আহাজারিতে থেকে বুঝা যায়, যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেয়ে কেউ বাড়ি ফিরছে লাশ হয়ে! শীতকালের সময়টাতে এসব ঘটনা ঘটতে থাকে সবচেয়ে বেশি করে এবং আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক নারী।
প্রয়োজনো অপ্রয়োজনে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকেছি কয়েকবার। বারবারই সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করেছি এরকম দৃশ্য যেনো আবার আমাকে না দেখতে হয়! করুণ দৃশ্য, অসহনীয় দৃশ্য! আগুনে পুড়া রোগিদের এরকম যন্ত্রনাক্লিষ্ট কষ্টকর দৃশ্যের সাক্ষি ও চিকিৎসা সেবক হতে হয় বার্ন ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সকল ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের। তাঁদের কাজটি নিঃসন্দেহে অনেক কঠিন আর মহত্তর তো অবশ্যই।
মানুষ কেনো আগুনে পুড়ে? কারন মূলত দুটি-১)প্রাকৃতিক কারন ও
২) মানব সৃষ্ট কারন।
প্রাকৃতিক কারনে কেউ বা কারো বাড়ি বা কোন এলাকা আগুনে পুড়ে গেলে তাতে কারো কিছু করার নেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক কারনে আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে খুবই কম। মানবসৃষ্ট কারনেই আমাদের দেশে আগুনে পুড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে, আহত হচ্ছে এবং কেউ কেউ বেঁচে থাকছে ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক সমস্যা নিয়ে।
মানবসৃষ্ট কারনগুলোর মধ্যে আছে আগুন সম্পর্কে অজ্ঞতা, অসতর্কতা, অসচেতনতা, দূর্ঘটনা ও হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা যা মানুষ ইচ্ছে করলেই কমিয়ে আনতে পারে অর্থ্যাৎ আগুনে পুড়ে জীবনহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে নিজে বাঁচতে পারে, অন্যকেও বাঁচতে পারে। নিন্মোক্ত বিষয়গুলোর উপর একটু নজর দিলে আগুনের পুড়ার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে অনেকটাই সহজ হবে।
১) আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে রান্না-বান্না ও ঘর- সংসার সামলাতে সবচেয়ে বেশি আগুনের কাছাকাছি থাকতে হয় নারীদের। সংঘত কারনে কোলের শিশু থেকে থেকে শুরু করে অন্যান্য শিশুরাও তার কাছাকাছিই থাকে। তাই আগুনে পুড়ে তাদের হতাহতের ঘটনাও বেশি হয়। চুলাতে আগুন জ্বালানো অবস্থায় খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার শিশুটি যেনো আগুন থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকে।
২) রান্না-বান্নার সময় সহজে খুলে ফেলা যায় এমন পোষাক পরিধান করুন।
৩) শাড়ি ও ওড়না পরিধান করলে সাবধানে থাকুন। ওড়না ও শাড়ির আঁচল টাইট করে শরীরের সাথে পেঁচিয়ে নিন।
৪) রান্না করার শেষে চুলার আগুন নিভিয়ে ফেলুন।
৫)মাটির চুলার তিনপাশে তিনফুটের মতো উঁচু করে মাটির/সিমেন্টর দেয়াল বানিয়ে নিন।
৬)কেরোসিনের কুপি/ মোমবাতি জ্বালাতে সতর্ক হোন। তাদের নিরাপদ দূরত্বে রাখুন।

৭)ঢাকনা বা চিমনিযুক্ত বাতি ব্যবহার করুন।
৮) মশার কয়েল জ্বালানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। মশায় কয়েল নিরাপদ দূরত্বে রাখুন যেখান থেকে আগুন লাগবার সম্ভানা থাকবে না।
৯) গরম পানি ও গরম তরকারি, গরম চা সতর্কতার সাথে নাড়াচাড়া করুন। এসব শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
১০) গোসলখানায় গরম পানির ডেকছি নিতে সাবধানী হোন। প্রয়োজনে বালতি ব্যবহার করুন।
১১) ঘরের ভিতর বিশেষ করে মশারীর ভিতর ধূমপান বর্জন করুন। বিড়ি/সিগারেট ধরানোর পর ম্যাচের কাটি হাতের মধ্যে নিভিয়ে তারপর ফেলবেন। সিগারেট/বিড়ি খাওয়ার পর অবশিষ্ট্য অংশ নিভিয়ে ফেলতে কখনোই ভুলবেন না।
১২) কেউ বিদ্যুতে শক খেলে খালি হাতে/পায়ে তাকে স্পর্শ করবেন না। সম্ভব হলে মেইন সূইচ অফ করে সাহায্য করুন।
১২) আগুন নিয়ে খেলবেন না।
১৩) আগুন পোয়ানো বর্জন করুন। বয়স্ক নারী ও শিশু যেনো কোন আগুনের কাছাকাছি না যায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।
১৪) কেউ আগুনে আক্রান্ত হয়ে পুড়ে গেলে কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র/চিকিৎসকের নিকট নিয়ে চলুন।
সভাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য ও নিরাপদে থাকুন, আগুন থেকে নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে হেফাজতে রাখুন।
লেখক: বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে নাক কান ও গলা বিভাগে কর্মরত।


প্রিন্ট

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019-2024 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!