বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর বহুল কাঙ্খিত সেতু নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন লাভ করায় আনন্দে ভাসছেন হাওর ভাটির তিন উপজেলার মানুষ। পশ্চিমের দুয়ার খ্যাত এই সেতুটি অবশেষে অনুমোদন লাভ করায় জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার যোগাযোগ, ব্যবসা, পর্যটনসহ এলাকার আর্তসামাজিক উন্নয়নে বিরাট পরিবর্তন সূচিত হবে বলে মনে করছেন সুধীজন। চলতি বছরের নভেম্বরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র করে ডিসেম্বরেই সেতুর কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যুগ যুগ ধরে সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে আসছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান উড়াল সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর পর এই দাবি আরো জোড়ালো হয়। এই সেতুটি না হলে উড়াল সেতুর পুরোপুরি সুবিধা ভোগ করতে পারতেন না এই তিন উপজেলার মানুষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য ‘হাওরাঞ্চলে উড়াল সড়ক নির্মাণ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’র অধীনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১ হাজার ২৭৭ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতুটি সিলেট বিভাগের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু হবে। ২০২৭ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনুমোদনলাভে বিলম্ব হওয়ায় মেয়াদকাল বাড়বে বলে জানা গেছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৬৫ কোটি টাকা। এটি নির্মিত হলে উড়াল সড়ক প্রকল্পের সঙ্গে তিনটি উপজেলার সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে সিলেট বিভাগের পাশাপাশি ময়মনসিংহ বিভাগের মোহনগঞ্জ ও নেত্রকোণার সঙ্গেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে জানায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। এতে আন্ত উপজেলা, জেলা ও বিভাগের লাখো মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবেন।
জামালগঞ্জের সন্তান ও কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মাহবুব আলম বসরকার বলেন, সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতুটি নির্মিত হলে ভাটির জনপদ বদলে যাবে। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয় এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, পর্যটনে নতুন দিন ডেকে আনবে। ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে বাড়বে কর্মসংস্থানও। বহুল এই কাঙ্খিত সেতুটি একনেকে বাস্তবায়িত হওয়ায় আমাদের দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে হাওরাঞ্চলবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারসহ জামালগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি ছিল সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের। অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এই সেতুটি অনুমোদন লাভ করায় আমাদের ভাটির জনপদে আনন্দের জোয়ার বইছে। পশ্চিমের দুয়ার খ্যাত এই সেতুটি আমাদের ভাগ্য বদলে দিবে।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ তথা ভাটির মানুষের জন্য এই সেতুটি বহুল কাঙ্খিত। একনেকে অনুমোদন লাভের পর আমরা আগামী মাসেই ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করবো। আশা করি ডিসেম্বরেই কাজটি শুরু করা যাবে। তবে বিলম্বে অনুমোদন লাভ করায় কাজের মেয়াদ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, এই সেতুটির ফলে উড়াল সড়ক প্রকল্পে উন্নয়ন আরো ফলপ্রসু হবে। শুধু তিনটি উপজেলার মানুষই নয় আন্ত জেলা ও আন্তবিভাগীয় পর্যায়েও উপকার বয়ে আনবে।