বিশেষ প্রতিনিধি::
এক ফসলি বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল। প্রতিবছর আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের কারণে ঝুঁকিতে থাকে কৃষকের একমাত্র ফসল। এর মধ্যেই বোরো আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে কৃষি বিভাগের ‘মনগড়া’ পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাওর নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি পর্যায়ে এখনো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় একই অঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর, ২০২৪-২৫ সালে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০, ২০২৩-২৪ সালে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ এবং ২০২২-২৩ সালে ২ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ দেখানো হয়েছে।
হাওর আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, মাঠের বাস্তবতা যাচাই না করে আগের বছরের প্রতিবেদনের সঙ্গে সামান্য পরিবর্তন এনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এমনকি ফসল ডুবে গেলেও ক্ষয়ক্ষতি কম দেখিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে দেখানো হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহসভাপতি শাহ কামাল বলেন, শুধু বোরো নয়, বিভিন্ন বিভাগের পরিসংখ্যানেও বাস্তবতার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। এতে হাওরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
হাওর আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, কৃষির প্রকৃত তথ্য না থাকায় স্ট্র্যাটেজিক রিপোর্ট দুর্বল হচ্ছে। গবেষক আব্দুল হাই চৌধুরী শানুর মতে, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হলেও পুরনো ছকেই পরিসংখ্যান তৈরি করা হচ্ছে। এটা অবৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে বাস্তব চিত্র সংগ্রহ করেন। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয়ভাবে তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্র থেকে নির্ধারণ করা হয়।