স্টাফ রিপোর্টার::
যে অপরের কল্যাণ করে, সে সবার আগে নিজের কল্যাণই করে” পরম সত্য ও মানবসেবার এই উদার ব্রতকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে উদযাপিত হলো ‘শাল্লা কল্যাণ সমিতি’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন। প্রবাসে কিংবা নিজ জনপদের বাইরে থাকা শাল্লাবাসীর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার নিয়ে শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী শহীদ জগতজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এক প্রাণবন্ত আবহে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল আগামী কার্যকালের জন্য যোগ্য ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব নির্বাচন। উপস্থিত সর্বস্তরের সদস্যদের প্রত্যক্ষ মত ও সর্বসম্মতিক্রমে অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদকে সভাপতি এবং অশেষ তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
শাল্লা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: সুলেমান মিয়ার সভাপতিত্বে এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দিপু রঞ্জন দাশের দক্ষ সঞ্চালনায় সম্মেলনে আলোচক ও অতিথিরা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও শিক্ষাবিদ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রঞ্জিত চক্রবর্তী, সাবেক শিক্ষক, শাহীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও নূরুল আমিন, সহকারী অধ্যাপক, রাগীব রাবেয়া কলেজ।
অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, একটি অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের আসল শক্তি হলো তার ঐক্য এবং সুনির্দিষ্ট জনকল্যাণমুখী উদ্দেশ্য। সুনামগঞ্জে বসবাসরত শাল্লাবাসীর পারস্পরিক সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে এবং নিজ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এই সমিতি দীর্ঘদিন ধরে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করছে। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
সম্মেলনে সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং আগামী দিনের কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ। বক্তব্য রাখেন রানা রঞ্জন চৌধুরী, চিন্তা হরণ চৌধুরী, সুমিত কান্তি সিংহ, সজল কান্তি দাস, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, পল্লব হোম দাস, নুরুল আমিন ও যোগেন্দ্র সমাজপতি।
বক্তারা বলেন, শাল্লা উপজেলার ঐতিহ্য রক্ষা ও সুনামগঞ্জ শহরে অবস্থানরত শাল্লার মানুষের অধিকার ও কল্যাণে এই সমিতি সর্বদা পাশে থাকবে।
সম্মেলনের চূড়ান্ত পর্বে ২৭ সদস্যের নতুন কমিটি নাম ঘোষণার পর সভাকক্ষে করতালির মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক অশেষ তালুকদার উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাঁরা যৌথ প্রতিক্রিয়ায় জানান, অর্পিত এই দায়িত্ব তাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন। সুনামগঞ্জে বসবাসকারী শাল্লাবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করাই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।