1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার হলেন মান্নান-সাদিক এমপি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পার্কে নারী নির্যাতন: তিন বখাটে গ্রেপ্তার কানাডাকে হারিয়ে স্বস্তির জয়ে টিকে রইল পাকিস্তান ভারতে এই তীব্র গরমে আরও ৮ জনের মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে ফ্ল্যাটের বারান্দায় ঝুলন্ত কলেজ ছাত্রের মরদেহ রূপার চেইনের জন্য ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে: র‌্যাব সিলেট টিলা ধসে মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি লেবাননের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ বাছাই থেকে শেষ বাংলাদেশ বাংলাদেশের নাটকীয় পরাজয়ে তামিম-মরকেল-ওয়াকারদের নিয়ম পুনর্বিবেচনায় রোনালদোর অনন্য কীর্তির দিনে পর্তুগালের দারুণ এক জয়

লকডাউনহীন সুনামগঞ্জের হাটবাজারে মানুষের ভিড়

  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১, ৮.৩৭ পিএম
  • ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

হাওর ডেস্ক::
কঠোর লকডাউনের ১৪ দিন পর সারা দেশের মতো সুনামগঞ্জেও শিথিল করা হয়েছে বিধিনিষেধ। এতে ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলেছেন। বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে শহর ও শহরতলীর হাট-বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলও বেড়েছে ব্যাপকহারে। ফলে হাট-বাজারে আসা লোকজনের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

শহর ঘুরে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার প্রতিটি দোকানপাটে, শপিংমলে এবং ফুটপাতে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা মার্কেটের গার্মেন্টসের দোকানে, মধ্যবাজারের কাপড়ের দোকানে, মুক্তারপাড়ায় লতিফ প্লাজায় গার্মেন্টসের দোকানে, দোজা শপিং সেন্টারে বিভিন্ন গার্মেন্টসের দোকানে, প্রসাধনীর দোকানে, ট্রাফিক পয়েন্টের ফুটপাতে রেডিমেড জামা-কাপড়ের দোকানে, পৌর বিপণী এলাকায় জুতার দোকানে, জগন্নাথবাড়িতে মসলাপাতির দোকানে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ব্যাংকে লেনদেন ও হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও ছিল ক্রেতা সাধারণের ভিড়। ওয়েজখালি বাজারে এবং ষোলোঘর বাজারে ছিল মানুষের বেশি সমাগম। শহরতলীর হালুয়ারঘাট বাজারেও ছিল একই রকম ভিড়।

এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যানজট। গ্রাম-গঞ্জের মানুষকে নৌকা ও গাড়ি বোঝাই করে শহরে আসতে দেখা গেছে। ঈদের জামা-কাপড় কেনাকাটার পাশাপাশি মসলাপাতি ও পিঠা-চিড়ার উপকরণ কিনে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এসব মানুষ। শহরের প্রতিটি সড়কে যেমন সারিবদ্ধ গাড়ি চলাচল ছিল, তেমনি প্রতিটি দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়।

বাজারে আসা ক্রেতা শহরতলীর বেলাবর হাটীর আব্দুস সামাদ বলেন, আমি ঈদের জামা-কাপড় কিনতে এসেছি। কিন্তু মানুষের ভিড়ে কিনতে পারছি না। অপেক্ষায় আছি। সুযোগ পেলেই দাম-দর করব।

ক্রেতা শওকত আলী বলেন, বাজারে এত ভিড় যা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের দাম-দর দেখে মনে হচ্ছে দোকানদার কাপড়ের যে দাম বলবে, সেই দামেই কাপড় কিনে নেবে।

মুদি ব্যবসায়ী প্রাণেশ রায় বলেন, গতকালের চেয়ে আজ একটু বেশি ক্রেতা মালামাল কিনে নিচ্ছেন। তবে পণ্যের দাম বাড়েনি।

পোশাক ব্যবসায়ী সজল বিশ্বাস বলেন, ক্রেতাদের ঝামেলায় কোন কাপড়ের কোন দাম বলব মনস্থির করতে পারছি না। মাঝে মাঝে কাপড়ের দাম ভুল বলে ফেলছি। ভুল বললেও কম বলিনি। বিক্রিও করে ফেলছি ভুল দামে।

শহরের লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন, লকডাউনের পর দোকানপাট খুলতেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। মানুষ মনে করছে এই বুঝি মালামাল শেষ, আর পাব না। যে যেমন দামে পারছে মালামাল কিনে নিচ্ছে। আসলে বেশি তাড়াহুড়ায় নিজেই ঠকছে। অপরদিকে দুরত্ব বজায় না রেখে মালামাল ক্রয় করায় করোনা আক্রান্তের বড় আশঙ্কা রয়েছে।

শহরের রিভার ভিউ এলাকার নৌকাচালক আক্কাছ আলী বলেন, লকডাউনের পর ঈদকে সামনে রেখে নৌকার যাত্রী অতিরিক্ত বেড়েছে। মাস্ক ব্যবহার বিষয়ে তিনি জানান, নৌকায় ওঠার পর যাত্রীরা মনে করেন আর মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই।

এদিকে ১৪ দিন পর মানুষের সমাগম বাড়ায় খুশি নিম্ন আয়ের রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক ও হোটেল শ্রমিকরা। তারা বলছেন, মানুষ বাড়ায় তাদের উপর্জনও বেড়েছে।

শহরতলীর সৈয়দপুর গ্রামের রিকশাচালক সহিদুল মিয়া বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩০০ টাকা উপার্জন করেছি। রাত পর্যন্ত রিকশা চালালে অন্তত হাজার টাকা উপার্জন করতে পারব।

তিনি বলেন, নিজস্ব জমি-জমা নেই। ২-৪ দিনে যে টাকা উপার্জন করব এই টাকা দিয়ে কিছু ঋণ পরিশোধ করব আর ঈদের খরচ করতে পারব।

আরেক রিকশাচালক রশিদ মিয়াও জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, আমি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ টাকা উপার্জন করেছি। শরীর ভালো থাকলে ঈদ উপলক্ষে যে টাকা উপার্জন করব তা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করব এবং ঈদের বাজার করব।

শহরতলীর আপ্তাবনগর গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক লতিফ মিয়া বলেন, অনেকদিন পর আজ গাড়ি চালিয়ে দুপুর পর্যন্ত হাজারখানেক টাকা উপার্জন করেছি। রাত পর্যন্ত চালালে প্রায় ২ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারব। এভাবে ঈদ পর্যন্ত গাড়ি চালালে ঋণও পারিশোধ করতে পারব, ঈদের বাজারও করতে পারব।

শহরের হোটেল শ্রমিক হারুন মিয়া বলেন, হোটেলে কাস্টমার সকাল থেকেই আসছে। ঈদের আগে ২/১ দিন বেচা-কেনা হবে। এরপর আবারও কঠোর লকডাউন। আমাদের ঈদ করা আর হবে না। চাকরি করে কয় টাকা পাই? তার চেয়ে এখন ঋণের বোঝা বেশি।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও জেলা বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সৈকত দাস বলেন, বাজারে বেশি মানুষের সমাগম হওয়ায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সাত দিনের জন্য সরকার যেহেতু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে, তাই যতটুকু সম্ভব আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়াই ভালো। বেশি প্রয়োজন হলে অন্তত মাস্ক পড়ে যেন বের হই।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019-2024 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!