1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৭:০০ অপরাহ্ন

আগের ধর্ষণ মামলার সাজা হবে যাবজ্জীবন

  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০, ১১.৩২ এএম
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

হাওর ডেস্ক ::
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধন) ২০২০’-এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর গতকাল মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেটটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়- এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে গেজেট জারি হওয়ার আগের সব ধর্ষণের অভিযোগের বিচার হবে সংশোধনের আগে থাকা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান অনুযায়ী। ফলে বর্তমানে আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষণ, নোয়াখালীতে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাসহ গেজেট কার্যকর হওয়ার আগের সব ধর্ষণের অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদ-। অর্থাৎ গতকাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে করা এই মৃত্যুদ-ের বিধান এসব ঘটনায় প্রয়োগের সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘গেজেট জারি হওয়ার আগের সব ঘটনার বিচার হবে আগের আইনে। এখানে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের বিধান মতে আগে যে সাজা ছিল, তার আওতায় বিচার হবে আগের সব ঘটনার। এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে বিধি তৈরির প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি না।’

সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দ- দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দ- দেওয়া যাইবে না।’

জানা গেছে, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ দেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচার হতো। এ আইনের ৯ (১) ধারায় বলা আছে- ‘যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-নীয় হবেন এবং এর অতরিক্তি অর্থদ-েও দ-নীয় হবেন। আর ৯ (২) ধারায় বলা আছে- ‘যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদ-ে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-নীয় হবেন।’

২০০০ সালের আইনের ৭ ধারা, ৯ ধারা (উপধারা ১, ৪, ৫), ১৯, ২০ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনে ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা’ শিরোনামে ৩২(ক) নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়, এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের শিকার ব্যক্তি মেডিক্যাল পরীক্ষা (ধারা-৩২-এর অধীন) ছাড়াও ওই ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ‘ডিএনএ আইন, ২০১৪’-এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে এক নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এবং সিলেটে এমসি কলেজের ভেতরে এক নারী গণধর্ষণ হওয়ার ঘটনা জানাজানির পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনকালেই আরও একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ অবস্থায় বিভিন্ন মহল থেকে শুধু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ- করার দাবি ওঠে।

এ প্রেক্ষাপটে সরকার ২০০০ সালের আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানায়। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় সরকার তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করে। তবে যেসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইন পরিবর্তন করা হলো, সেসব ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদ-ের এই বিধানের প্রয়োগ সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ গেজেটের ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ আগের ঘটনার বিচার এ অধ্যাদেশের অধীনে হবে- এমন কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

এ ব্যাপারে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, গেজেটে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেওয়া না হলে গেজেট জারির আগের ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদ-ের বিধানের প্রয়োগে সমস্যা হতে পারে। সেটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ আমাদের সংবিধানে এক্ষেত্রে একটি বাধা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মার্চ পর্যন্ত সারাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে বিচারাধীন মামলা ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার মামলা ৫ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন। আর উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে ১ হাজারের বেশি মামলা। এ ছাড়া তদন্ত পর্যায়েও রয়েছে অনেক মামলা। এসব মামলার মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগের বিচার হবে গতকাল সংশোধনের আগে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন প্রদানের বিধান অনুযায়ী।

আইন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলার বিচার ১৮০ দিনে আর তদন্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনে শেষ করার বিধান রয়েছে; কিন্তু আইনের বিধান শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। ফলে বছরের পর বছর পার হলেও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার শেষ হচ্ছে না। এতে অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে পার পেয়ে যাচ্ছেন। বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারী ও শিশু। এ অবস্থায় ধর্ষণের মতো ব্যাধি সমাজ থেকে দূর করতে হলে মৃত্যুদ-ের বিধানের পাশাপাশি বিচারে গতি ফেরানোর তাগিদ দেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া সামাজিক, পারিবারিক, নৈতিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থাসহ বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তারা।

জানতে চাওয়া হলে আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদ-ের শাস্তিও থাকতে হবে। তবে শুধু মৃত্যুদ- দিয়ে ধর্ষণের মহামারী বন্ধ করা যাবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে এবং সাজা কার্যকর করতে হবে। এসবের পাশাপাশি বহুমাত্রিক প্রয়াস প্রয়োজন। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার মানুষের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার; কিন্তু পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটির কারণে দ্রুত বিচার করা যাচ্ছে না। এ কারণে আমার সাজেশন হলো- জেলায় জেলায় ডিএনএ টেস্টের জন্য ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে হবে, পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগ এবং জেন্ডার সেনসেটিভ পুলিশ দিয়ে মামলার তদন্ত করাতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!