1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

বারুণি মেলা ও শাহ আরেফিনের ওরস শুরু

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭, ৬.১৫ পিএম
  • ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার::
বৃহত্তর সিলেটে সীমান্তে অনুষ্টিত বৃহত্তম উৎসব বারুণি ও শাহ আরেফিনের ওরসে সীমান্ত এলাকা এখন পূণ্যার্থী ও ভক্তদের পদভারে মুখরিত। শনিবার রাত থেকে রোববার বেলা ১১ টা পর্যন্ত দেশ বিদেশের লাখো পূণ্যার্থী গঙ্গারূপি যাদুকাটা নদীতে পুন্য¯œান সম্পন্ন করতে জড়ো হয়েছেন। অন্যদিকে রোববার রাত থেকে প্রাচীন বাংলার প্রথম রাজধানী লাউড়েরগড়ে ভারত সীমান্তের ঘোমাঘাটের নিচে অনুষ্ঠিত হবে শাহ আরেফিনের ওরস। ধর্মীয় পরিচয় চাপিয়ে এই দুই দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলমানের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে সীমান্তে। শনিবার রাত ১২টার পরেই প্রথম প্রহরে অনেক পূণ্যার্থী ¯œান সম্পন্ন করেছেন।
হিন্দু মুসলমানের ঐতিহ্যবাহী এই দুই উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবশ্রেণির লোকজনসহ মুসলমান সম্প্রদায়ের পীর ফকিরসহ নানা পেশার লোকজন জড়ো হয়েছেন সীমান্তে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুই ধর্মের বিপুল জনগোষ্ঠী মনোবাসনা পূরণের জন্য ‘মাইনস্যা’ হিসেবে গরু, খাসি, পাটা, মোরগসহ বিভিন্ন মানত উপকরণ নিয়ে নিয়ে এসেছেন। শারফিনের মাজার গুমাঘাটে ও অদ্বৈত মহাপ্রভুর নবগ্রাম তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী তীরে তারা অবস্থান করছেন।
তিথি মতে শনিবার রাত ১২টা ৮ মিটি ২৬ সেকেন্ড থেকে পরদিন রোববার সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ৫১ সেকেন্ড পর্যন্ত পূণ্য¯œানের লগ্ন নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই হিন্দুধর্মের হাজার হাজার নারী পুরুষ তীর্থরূপি যাদুকাটায় গঙ্গা¯œান সম্পন্ন করেছেন প্রথম প্রহরে।
জনশ্রুতি রয়েছে ১৪৩৪ খৃষ্টাব্দে লাউড় পরগনার নবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাধক পুরুষ মহাপ্রভু শ্রী অদ্বৈত আচার্য। পূণ্যস্নান সম্পর্কে জনশ্রুতি রয়েছে আট বছরের অদ্বৈত আচার্যকে নিয়ে তার মাতা নাভা দেবী স্বপ্নযোগে দেখতে পান তার শিশুপুত্র শঙ্খচক্র গদা পদ্ধধারী মহাবিষ্ণু। তার মুখের দ্যুতিময় আভার আকষ্মিকতায় হতবিহ্বল নাভা দেবী পুত্রের স্বর্গীয় মুর্তির সম্মুখে আনত হয়ে শ্রী চরনোদক প্রার্থনা করেন। মা স্বপ্নের সকল বৃত্তান্ত তাকে খুলে বলেন। সর্বশেষ অদ্বৈত প্রভু তার ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সপ্ততীর্থ (গঙ্গা, যমুনা, নর্দমা, স্বরস্বতি, গোদাবেরি, কাবেরি ও সিন্দু) বারি দিয়ে অবগাহনের মাধ্যমে মায়ের গঙ্গাস্নানের আশা পূরণ করেন। মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধারণা মতে এই সময় নদী তার পূণ্য¯্রােতে প্রমত্ত হয়ে উঠে। ধর্মীয় মতে সেই তিথিতে পূণ্যøানের আয়োজন হয়ে আসছে।
জানা গেছে প্রায় ৭শ বছরের অধিক সময় ধরে যাদুকাটা নদীর প্রায় তিন কি.মি. এলাকা জুড়ে গঙ্গা¯œান উপলক্ষে পণাতীর্থ নামে মেলা বসে। পুস্তকি নাম ‘পণতীর্থ’ হিসেবে নথিভুক্ত হলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পণাতীর্থ ‘বান্নী’ হিসেবে পরিচিত। এউ উৎসবটি সর্বজনীন উৎসব হিসেবে স্বীকৃত।
এদিকে শাহ আরেফিনের মাজারে রোববার রাত থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী ওরস অনুষ্ঠানের। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজনসহ সর্বধর্মের লোকজনও এখানে অংশ নেন। তারা শাহ আরেফিনের মাজারে নানা মানত নিয়ে আসেন। রাতভর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বাউলরা মুর্শিদী ও ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
দুটি দিবস উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিগ্ন করতে ও যাত্রী হয়রানী রোধে প্রশাসন রেজুলেশন করে ব্যবস্থা নিয়েছে।
বারুণি উৎসব কমিটির সভাপতি করুণা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, আমরা উৎসব উপলক্ষে নিজেরা শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের পাশাপাশি প্রশাসনও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। কোন পূণ্যার্থী ও ওরসে আসা ভক্ত যাতে দুর্ভোগে না পড়ে সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি বলেন, এই উৎসব আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে দেখা দেয়। সেই ঐতিহ্য রক্ষা করেই আমরা চলতে চাই।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হিন্দু-মুসলমানের এই মিলনমেলা দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারও এ উপলক্ষে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসব যাতে নির্বিগ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!