1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

ছন্দপতনের বর্ষে করোনা জয়ের প্রত্যয়

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০, ৯.২২ এএম
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

হাওর ডেস্ক ::
উৎসবের কালের ওপর কালো ছায়া ফেলল মারীর আকাল। পৃথিবী এমন বাস্তবতা আগে কখনো দেখেনি। বিশ্বময় যেন প্রেতনৃত্য চলছে করোনার। মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে ইউরোপ আর আমেরিকার বড় বড় দেশ। বিশ্বের মহাশক্তিধর দেশও আজ করোনায় কুপোকাত। যেকালে মানুষ ছুটছে মহাকাশে, প্রস্তুতি চলছে মঙ্গল অভিযানে, সেই কালে এক অদৃশ্য অণুজীব এসে ধরাশায়ী করল তাকে। পশ্চিম গোলার্ধে দীর্ঘ শীতের শেষে রৌদ্রোজ্জ্বল ঝলমলে বসন্ত এসেছে প্রকৃতির আনন্দ বার্তা নিয়ে। অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে ঘোলাটের দিনের পরে এমন আলোর সমাবেশে ওদের তো বাইরে মহানন্দে ছুটাছুটি করার কথা। কিন্তু করোনা তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর আমাদের এখানে বসন্ত শেষে বরণ করার কথা বাংলা নববর্ষ। প্রতি বছর এভাবেই সারাদেশ উৎসবে মেতে উঠেছে বরাবর।

কিন্তু উৎসব আয়োজন ও উদযাপনের জন্যে প্রথম প্রয়োজন মনের আনন্দ। উৎসব তো আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। অথচ আজ মানুষের মনে আনন্দের জায়গা নিয়েছে আতঙ্ক, কখন আক্রান্ত হয় রহস্যময় এ রোগে। উৎসবের প্রকাশ ঘটে মানুষে মানুষে মিলন ও প্রীতিবিনিময়ের মধ্য দিয়ে। করোনা প্রতিরোধে আজ সবার জন্য অবশ্যপালনীয় বিধান হলো ঘরে বন্দি থাকা এবং একে অপরের সঙ্গে যথাসম্ভব দূরত্ব রক্ষা করা।

উৎসবের বিপরীত বাস্তবতায় দিন কাটছে বিশ্ববাসীর, আমাদেরও। উৎসব উদযাপনের বাস্তব কোনো সুযোগ নেই। আমাদের জীবনে এই স্বাধীন বাংলাদেশে নববর্ষ নিয়ে আসে বহুতর ব্যঞ্জনা ও ভিন্নতর তাৎপর্য। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লড়াই শুরু হয়েছিল মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে। তবে ক্রমেই তা সংহত হয়েছে বাঙালির সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে।

এই সাংস্কৃতিক জাতীয়তার অভিযানে সবার আবেগ ও সব অনুষঙ্গ যেন ক্রমেই একত্রিত হয়েছিল এই একটা উৎসবের মধ্যে। বাংলা নববর্ষ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাণের উৎসব। আমাদের প্রতিবেশী আদিবাসীরাও এ সময়ে বৈসাবি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে পালন করেন নববর্ষ। ফলে এই উপলক্ষের ব্যাপ্তি ঘটেছে অনেক বেশি।

আজ যেন ছন্দপতন ঘটল। পঞ্চাশের দশকে নবজাগ্রত বাঙালি চেতনা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ছোটবড় নানা পরিসরে নববর্ষ পালিত হয়েছে। তবে ১৯৬৩ সনে সংগীত সংগঠন ছায়ানটের উদ্যোগে প্রথম কোনো মুক্ত জনপরিসরে রমনা পার্কের বটগাছ তলায় বড় আয়োজনে নববর্ষের প্রভাতী অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেকালে পাকিস্তান সরকার বহুভাবে চেষ্টা করেছে এই উৎসব বন্ধ করার। কিন্তু ততদিনে এ তো হয়ে উঠেছিল সবার প্রাণের উৎসব; বরং দিনে দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাঙালি স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দাবি জোরদার হলে নববর্ষ উদযাপনের প্রয়াস যেমন বেড়েছে তেমনি রমনা বটমূলের নববর্ষে প্রভাতী অনুষ্ঠানে আম জনগণের যুক্ত হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। না, নববর্ষ উদযাপন থেকে পশ্চিমা সামরিক সরকারের রক্তচক্ষু বাঙালিকে বিরত করতে পারেনি।

তবে উৎসব বন্ধ থাকল কেবল ১৯৭১ এ। সে তো মুক্তিযুদ্ধের বছর, জাতি তখন আপন স্বদেশ গড়ার পথে রণাঙ্গণে ত্যাগে-বীরত্বে লড়ে চলেছে। তখন উৎসবের ফুসরৎ কোথায়। কিন্তু ৭৫ এর পরে জিয়াউর রহমানের আমলে আরেকবার চেষ্টা হয়েছিল নববর্ষ বন্ধ করার। কেননা তার ব্রত তো ছিল বাংলাদেশকে ফিরে পাকিস্তান বানানো। সে ষড়যন্ত্রও বাঙালি বানচাল করেছে; বরং বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদী বাঙালি নব উদ্দীপনায় নববর্ষ উদযাপনের পরিসর ও মাত্রা বাড়িয়েছে। সেই থেকে জেলায় জেলায় এই আয়োজন ছড়িয়ে পড়েছে, প্রভাতী অনুষ্ঠান কোথাও গড়িয়েছে দিনব্যাপী, কোথাও বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের যুগ্ম অনুষ্ঠান চালু হলো, কেউবা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী মেলা নগরেও প্রচলন করলেন। আকর্ষণের কেন্দ্র চলে এলো বাদ্যে, সজ্জায়, বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায়। রাজধানীর এই শোভাযাত্রা দিনে দিনে কলেবরে ও আকর্ষণে বড় হয়েছে। দেশের আনাচে কানাচেও এই ধারা অনুসৃত হলো। আজ মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের নববর্ষ যেন উচ্চতর মর্যাদায় বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেল।

কিন্তু এবারে এলো ছন্দপতনের বছর। বাজার বন্ধ, কেনাকাটা হবে না, নতুন পোশাক পরা হবে না, উৎসবের খাবারে কারোরই আগ্রহ দেখা যাবে না, হালখাতা খোলা হবে না, মিষ্টির দোকান তালাবদ্ধ, আজ বিশ্ববাসীর সঙ্গে আমরাও করোনার থাবার নিচে, উৎসবের কথা ভাবতে পারছি না। তবুও নববর্ষের প্রথম দিনে কবির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি- মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।

বৈশাখের রৌদ্রতপ্ত দিনে রৌদ্রস্নানে আজ আমাদের প্রিয় পৃথিবী শুচি হোক, শুদ্ধ হোক ও রোগ মুক্ত হয়ে বেঁচে উঠুক। বছরের প্রথম দিনে সকলে মিলে শপথ নিতে পারি করোনা প্রতিরোধে আরোপিত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করে নিজে ভালো থাকব এবং অন্যদের ভালো থাকতে সাহায্য করব।

ছন্দপতনের নববর্ষে জাতি এবং সমগ্র বিশ্ববাসী শুভ কামনা করবে। বিশ্ব করোনার করাল গ্রাস থেকে দ্রুত মুক্ত হোক, যারা সংক্রমিত হয়েছেন তারা যে দেশ, যে ধর্মেরই হোক না কেন, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আমরা অবশ্যই আগামী নববর্ষ দ্বিগুণ উৎসবে ও বহুগুণ জৌলুসের সঙ্গে পালন করব- এই আমাদের প্রত্যাশা। সবার উদ্দেশ্যে বলব-

সংকটের কল্পনাতে হয়ো না ম্রিয়মাণ

মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো নিজেরে করো জয়।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!