1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যনগরে জলমহালের পাহারাদারের উপর হা ম লা য় শি শুসহ আ হ ত ৩ ঘুরে দাঁড়াতে হবে, এই সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না : ফখরুল কোটা আ ন্দো ল ন : দেশে প্রাণ হারালেন ছয় জন কোটা আন্দোলনে হঠাৎ উ ত্ত প্ত সিলেট আবারো স্থগিত করা হলো সিলেটের এইচএসসি পরীক্ষা সিটি এলাকায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা ছাত্র রাজনীতি ‘নিষিদ্ধের’ অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষদের সই নিয়েছে ঢাবির হলের সকল শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের সামনে পড়ে থাকা সেই মরদেহ ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সবুজের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল ত্যাগের নির্দেশ নতুন মুদ্রানীতি: মূল্যস্ফীতি বশে আনা, আরও যেসব পদক্ষেপ নিতে চান অর্থনীতিবিদরা

বছরজুড়ে রটানো গুজবে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষ

  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০, ১১.৩৬ এএম
  • ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

হাওর ডেস্ক ::
নানা ধরনের উন্নয়নের পাশাপাশি গুজবের বছরও ছিল ২০১৯। একের পর এক গুজবে অবনতি হয় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। পদ্মাসেতুতে মাথা লাগার গুজব রটানোর কারণে বছরের মাঝামাঝি হুট করে আলোচনায় আসে ‘ছেলেধরা’র গুজব। আর এমন সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন ৬৪ জন নিরীহ নারী-পুরুষ। এছাড়াও গুজব রটিয়ে ভোলায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটানো হয়। এভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বছরজুড়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এসব গুজব প্রতিরোধে হিমশিম খেতে হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিতরা বলছেন, অপরাধের ধরনও পাল্টেছে অপরাধীরা। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হয়। এরপর অপরাধ ঘটানো হয়। আর এতে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছে বেশি। তাই নতুন বছরে (২০২০) ভার্চুয়াল জগতের অপরাধ দমনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন তারা।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, ২০১৯ সালের অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল গণপিটুনি। এতে অনেক নিরীহ মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বছরের মাঝামাঝি সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে’- এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। জুন ও জুলাই মাসে হঠাৎ করে ছেলেধরা আতঙ্ক তৈরি হয় সারাদেশে। এতে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান বেশ কিছু নিরীহ মানুষ।

গুজব ও গণপিটুনিতে হত্যা:

এ বছরের ৯ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছেলেধরা সন্দেহে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের চাঁদগেটে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। ওই যুবকের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়াও মাথা, চোখের নিচে ও মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। হঠাৎ করে ওই যুবককে ‘ছেলেধরা’হিসেবে সন্দেহ করে বসে কয়েকজন। এ কথা শুনে কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই স্থানীয়রা ওই যুবককে গণধোলাই দিতে শুরু করে বলে পুলিশ জানায়। তবে ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই নেত্রকোনায় রবিন নামের এক যুবকের ব্যাগ থেকে এক শিশুর মাথা পাওয়া গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে ধাওয়া করে নিউটাউন পচা পুকুর (অনন্ত পুকুর) পাড়ে গণপিটুনিতে হত্যা করে।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই সকাল পৌনে সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজার এলাকায় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে যান তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারী। এ সময় তাকেও ছেলেধরা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে বের করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনার পর পরিবারের করা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। একই দিনে (২০ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হন। একইদিনে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে শারমিন বেগম (৩৫) নামে আরও এক নারীকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এর পরদিন, ২১ জুলাই মিনু মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সয়া হাটে মাছ ধরার জাল কিনতে গিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

পরিসংখ্যান:

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে গুজব রটিয়ে দেওয়া গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৪ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ২১ জন, চট্টগ্রামে ২৫ জন, খুলনায় ৭ জন, বরিশালে ৪ জন, রাজশাহীতে ৩ জন, সিলেটে ৩ জন, এবং ময়মনসিংহে ১ জন নিহত হয়। তবে শুধু রংপুরে গণপিটুনির কোনও ঘটনা ঘটেনি।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের নিজস্ব গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৫৪ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে জানুয়ারি মাসে ৩ জন, ফ্রেব্রুয়ারি মাসে ৯ জন, এপ্রিল মাসে ১২ জন, মে মাসে ৩ জন, জুন মাসে ৩ জন, জুলাই মাসে ১৩ জন, আগস্ট মাসে ৬ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ১ জন, অক্টোবর মাসে ১ জন, নভেম্বর মাসে ২ জন, ডিসেম্বর মাসে ১ জন এমন ঘটনার মিকার হন। সবচেয়ে বেশি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে এপ্রিল ও জুলাই মাসে। গণপিটুনিতে ৫৩ জন পুরুষ ও মাত্র ১ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলায় গণপিটুনিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তথ্য মতে, ঢাকায় ২১ জন, চট্টগ্রামে ২০ জন, রাজশাহীতে ৬ জন, খুলনায় ৫ জন, বরিশালে ১ জন এবং ময়মনসিংহে ১ জন এমন ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন।

গণপিটুনিতে যারা নিহত হয়েছে তাদের বয়স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১-৩০ বছরের ১৬ জন, ৩১-৪০ বছরের ২২ জন, ৪১-৫০ বছরের ৬ জন, ৬১-৭০ বছরের ১ জন এমন ঘটনার শিকার হন। এছাড়াও নিহত ৮ জনের সঠিক বয়স জানা যায়নি।
যেভাবে ছড়িয়েছে পদ্মা সেতু গুজব:

২০১৫ সালের ১ মার্চ নদীতে পশুর রক্ত ঢেলে পদ্মা সেতুর ভিত্তিস্থাপন কাজের উদ্বোধন করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর পরীক্ষামূলক ভিত্তি স্থাপনের সময় নদীতে গরু ও খাসির রক্ত ঢালতে দেখা যায় চাইনিজ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। ভাসিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মুরগিও। তাদের বিশ্বাস, বড় কাজের শুরুতে পশু উৎসর্গের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, এড়ানো যায় বড় দুর্ঘটনা। তখন গণমাধ্যমেও এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে ওই সময়ের ঘটনার মূল তথ্য আড়াল করে রক্তের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নতুন করে প্রচার ও প্রকাশ শুরু করে একটি মহল। এতে ‘ছেলেধরা’ গুজব দ্রুতই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যেও ভীষণ আতঙ্ক বিরাজ করতে শুরু করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, একটি কুচক্রী মহল দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে এই মহলটি গুজব ছড়ানো শুরু করে। এরপর থেকে নানা ইস্যুতে গুজব উঠলেও ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে গুজবের ভয়াবহতা দেখা দেয়। এদিকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়।

ভোলায় পুলিশের সঙ্গে ‘তৌহিদি জনতা’র সংঘর্ষ:

২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরের ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে তৌহিদি জনতার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হলে পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হয়। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় গ্রামবাসী। প্রাণ বাঁচাতে পুলিশ গুলি ছুড়লে ৪ জন নিহত ও ১০ পুলিশসহ দেড়শতাধিক আহত হন। অথচ এ ঘটনার পেছনেও ছিল ছিল একটি গুজব।

এক সংখ্যালঘু যুবকের ‘হ্যাকড হওয়া’ ফেসবুক আইডি থেকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে গুজব ছড়ায় একটি কুচক্রি মহল। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতেই এই বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
লবণের দাম বাড়া নিয়ে গুজব:

এ বছরের ১৯ নভেম্বর হঠাৎ করে প্রথমে রাজধানী ও পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লবণের দাম বাড়ার গুজব ওঠে। দ্রুত তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এমন গুজব ছড়িয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালায় হরিলুট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘৩৫ টাকা কেজির লবণ ১৫০-২০০ টাকাও পাওয়া যাবে না’-এমন গুজব ছড়ালে তাতে কান দিয়ে হুট করে বেশি দামে লবণ কিনে টাকা হারান একদল সাধারণ। তবে সেদিন বিকালেই ‘লবণ গুজব’ প্রতিহত করতে মাঠে নামে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে নামায় এই গুজব বেশি দূর সংক্রমিত হতে পারেনি। তবে এতেও অর্ধশত কোটি টাকা কামিয়ে নেয় অসাধু এই মহলটি।

গুজবে শ্রমিক আন্দোলন:

২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারিতে সাভারে শ্রমিক নিহতের গুজবে তুলে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমিনবাজারের ‘ব্যান্ডো ইকো অ্যাপ্যারেলস লিমিটেড’ কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুজবের সৃষ্টি হয়। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বাজার গুজবের সৃষ্টি করে। তবে মানুষের মধ্যে জন-সচেতনতা সৃষ্টির জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি টিভিসি প্রচার করা হয়েছে। এই টিভিসি প্রচারের কারণে দেশে বেশ সাড়াও পড়েছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে। কোনও গুজবই যাতে প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সে জন্য আমরা তৎপর রয়েছি। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যারা গুজব ছড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে, ইতোপূর্বে তাদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গুজবের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।’

নতুন বছরে (২০২০ সালে) সাইবার ক্রাইম নিয়ে আরও বেশি কাজ করবে র‌্যাব এমন তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নতুন বছরে আমরা সাইবার ক্রাইমকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবো। যারা গুজব ছড়িয়ে দেশে প্রবৃদ্ধিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করবে, তাদের শক্ত হস্তে দমন করা হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019-2024 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!