1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

‘হতভাগ্য অকস্মাৎ মরে যায় বুকে নিয়ে স্মৃতি’ ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সহকারি শাকিলের মত্যৃ

  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২.৫৯ এএম
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্স::
‘মৃতদের কান্নার কোন শব্দ থাকে না, থাকতে নেই/নেই কোন ভাষা, কবরের কোন ভাষা নেই/হতভাগ্য সে মরে যায় অকস্মাৎ বুকে নিয়ে স্মৃতি…’Íফেসবুকে এমন একটি কবিতা পোস্ট করেন তিনি। এরপর অজানা কারণে নিজেই ভিড়ে যান মৃতদের দলে।
কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে সখ্য, সাংবাদিকদের সুহৃদ, রাজনৈতিক সহকর্মীদের হৃদয়ে ধারণ, বন্ধুবাৎসল্য, সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে সদাশয় এ রকম অনেক গুণ তাঁকে করে তুলেছিল সর্বজনের প্রিয়। একজন কবি, গল্পকার ও আদর্শ রাজনীতিবিদের চমৎকার সমন্বয়ের এই মানুষটির হঠাৎ মৃত্যুতে তাই শোক নেমে আসে অসংখ্য হৃদয়ে। তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, সাবেক ছাত্রনেতা ও কবি মাহবুবুল হক শাকিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব শোক জানিয়েছেন।

শাকিলের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক ও দক্ষ সংগঠককে হারাল। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শাকিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বুধবার) সকালে শাকিলের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হবে। ’

শাকিল কখন, কিভাবে মারা গেছেন জানতে চাইলে আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পরই বোঝা যাবে কিভাবে তাঁর (শাকিল) মৃত্যু হয়েছে। তিনি সোমবার রাতে গুলশানের সামদাদো রেস্তোরাঁয় আসেন। রাতের খাবারের পর সেখানেই একটি কক্ষে ঘুমাতে যান। আজ (মঙ্গলবার) রেস্তোরাঁর লোকেরা শাকিলকে ডাকতে গিয় মৃত অবস্থায় পায়। ’

গতকাল বিকেলে ওই রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকসহ ছয় কর্মীকে গুলশান থানার পুলিশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। গুলশান থানার ওসি জানান, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সব মৃত্যুর কারণই পুলিশ খতিয়ে দেখে। শাকিল রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়েছে, বলা যাবে না। ’

গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। ’

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘আমরা সাময়িকভাবে গুলশানের সামদাদো রেস্টুরেন্টটি বন্ধ রেখেছি। লোকজন বের হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ রেস্টুরেন্টটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ’

শাকিলের কয়েকজন রাজনৈতিক সহকর্মী জানান, দুপুর ১২টার দিকে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, দ্বিতীয় তলায় শাকিল অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে গাড়িচালক হেলালকে ফোনে বিষয়টি জানায় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। পরে ড্রাইভার শাকিলের আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখেন, শাকিল একটি কম্বল গায়ে দেওয়া অবস্থায় শোয়া আছেন। পরে আরো লোকজন এবং একজন ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়। ডাক্তার উপস্থিত হয়ে সেখানেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন স্ট্রোক করে শাকিল মারা গেছেন বলে সবাইকে জানানো হয়।

শাকিলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হেলাল বলেন, ‘আমাকে হোটেল থেকে দুপুরের দিকে ফোন দিয়ে জানানো হয় স্যার অসুস্থ। তারপর আমি সবাইকে ফোনে খবর দিয়েছিলাম। ’

শাকিলের মৃত্যুর খবর শুনে সামদাদো রেস্টুরেন্টের সামনে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম ও উপপ্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান প্রমুখ।

সেখানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের জানান, ‘শাকিলের মরদেহ বারডেমের মর্গে রাখা হবে। আগামীকাল (আজ বুধবার) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে শাকিলের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ময়মনসিংহে শাকিলের নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। ’

মাহবুবুল হক শাকিল ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। শাকিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজে পড়াশোনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন শাকিল। তিনি আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠনটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের গত কমিটিতে উপকমিটির সহসম্পাদক ছিলেন শাকিল।

শাকিল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপপ্রেসসচিবের দায়িত্ব পান। দুই বছর পর তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর (মিডিয়া) দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ পান শাকিল।

তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক।

মৃত্যুকালে তিনি আইনজীবী স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মাহবুবুল হক শাকিল কবিতা লিখতেন। তাঁর প্রকাশিত বই ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ ও ‘মন খারাপের গাড়ী’। মৃত্যুর আগেও মাহবুবুল হক শাকিল তাঁর ফেসবুক পাতায় নিজের লেখা ‘এলা, ভালবাসা, তোমার জন্য’ শিরোনামে একটি কবিতা পোস্ট করেন।

ময়মনসিংহে শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ থেকে জানান, মাহবুবুল হক শাকিলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রয়াত শাকিল ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকার বড় ছেলে। গতকাল দুপুরে মৃত্যু সংবাদ আসার পরপরই শাকিলের ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা রোডের বাসায় এক শোকাবহ দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন শাকিলের মা-বাবাসহ অন্য আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা। শোক ও সমবেদনা জানাতে বাঘমারার বাসায় ছুটে আসেন ধর্মমন্ত্রী, ময়মনসিংহের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজনরা।

যাঁরা ছুটে আসেন তাঁরা হলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান ফকির প্রমুখ। প্রয়াতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে ময়মনসিংহে জানাজা সম্পন্ন হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!