1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের সম্মেলন: দারিদ্র্যতা জয়ের অঙ্গিকার

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬, ৯.৩৯ এএম
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্স:
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন।
বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে ‘সহায়ক নেতৃত্ব’ বের করে আনার পরিকল্পনা নিয়ে এই সম্মেলনে বসল মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দলটি। দলীয় প্রধান বাংলাদেশের দারিদ্র্যতা জয়ে অঙ্গিকার করেছেন তার নির্ধারিত বক্তব্যে। আগাম বিদেশী অতিথিরাও ঐতিহ্যবাহী ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রশংসা করেছেন।

শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দলের ২০তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা তোলার পর পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বের পর বিদেশি অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী পর্বের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বসবে রুদ্ধদ্বার কাউন্সিল অধিবেশন, যাতে পরবর্তী কর্মপন্থা ও নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বড় দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে তারা সম্মেলনে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা বাস্তবায়নের ভার কাদের উপর দেয়, সেদিকে দৃষ্টি এখন সারা দেশবাসীর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দলকে গত ৩৫ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা তার কন্যা শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, অবসরে যাওয়ার সুযোগ পেলে তিনি ‘খুশি’ হবেন।

তবে দলীয় নেতারা বলে আসছেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

শেখ হাসিনা কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের কথা বললেও দলের নেতারা তার দিকেই তাকিয়ে আছেন।

সম্মেলনের আগে নেতাকর্মীদের মধ্েয সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। সভাপতির পর সাংগঠনিক দিক দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে গত দুই বারের সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই থাকছেন, না নতুন কোনো মুখ দেখা যাবে- সে প্রশ্ন ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও।

এছাড়া জাতীয় কমিটি, সভাপতিমণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী পরিষদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কারা বাদ পড়ছেন, নতুন কারা যোগ হচ্ছেন- সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টায় নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে ঘুরছে অনেকের নাম।

তবে কাউন্সিলে খুব বেশি পরিবর্তন আসছে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে সাধারণ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের কথায়।

সম্মেলনের আগের রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কাউন্সিলে খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। এটা ইনক্রিমেন্টাল হয়। যারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, বা অসুস্থ আছেন, তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন ইনডাক্ট করা হয়। প্রবীণ-নবীণের সমন্বয়েই নতুন কমিটি করা হবে।”

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা কাউন্সিল সফলভাবে করব। এর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। সরকার তো দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করবেই। দলের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করতে হবে, যাতে আমরা এই কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে করতে পারি।”

দিন বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরা আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আরও পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের দায়িত্ব পায়। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালে মধ্েয বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্েয উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তার সরকারের কর্মসূচি সাজিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ২০তম সম্মেলনের স্লোগান ঠিক করেছে ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’।

ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর এবং সম সংখ্যক পর্যবেক্ষক রুদ্ধদ্বার কাউন্সিল অধিবেশনে বসছেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ আহমেদ জয়ও থাকছেন কাউন্সিলর হিসেবে।

কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদের তিন সদস্যদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অন্য দুই সদস্য হলেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও রাশেদুল আলম।

ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ ১১টি দেশের বিভিন্ন দলের ৫৫ জন রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলটির সম্মেলনে অতিথি হিসেবে এসেছেন।

জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশাপাশি সাজানো হয়েছে পুরো রাজধানীকে।

ঢাকার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু আর শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত তোরণ। প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশে বিভিন্ন রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।

মঞ্চ ও আশপাশের ২৮টি এলিডি পর্দায় উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় শনি ও রোববার যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া সর্বসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। গতবছর ডিসেম্বরে সেই কমিটির মেয়াদপূর্তির পর মার্চ ও জুলাইয়ে দুই দফা পিছিয়ে এবারের সম্মেলন হচ্ছে।

কাউন্সিলর হিসেবে ঢাকায় আসা খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এই সম্মেলনে একটি ‘শক্তিশালী কমিটি’ পাওয়ার আশা করছেন তারা, যে কমিটি ‘সক্রিয়ভাবে’ কাজ করবে।

আর নরসিংদী জেলার কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম খান বীরু বলেন, “এই সম্মেলন থেকে যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে, এটাই আশা করি।”

নতুন নেতৃত্বের স্থান সঙ্কুলানে এবারের সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আকার বাড়ানোর উদ্েযাগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে গঠনতন্ত্র উপ-কমিটির প্রস্তাব গত ১৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সম্মতিও পেয়েছে। এখন কাউন্সিলে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা।

# ৭৩ সদস্েযর কার্যনির্বাহী সংসদের আকার বেড়ে হবে ৮১ সদস্েযর

# এর মধ্েয সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের সংখ্যা বাড়বে ৪ জন

# কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যের সংখ্যা বাড়বে ২ জন

# যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাড়বে একজন করে

আওয়ামী লীগের অঙ্গীকারের অনুচ্ছেদেও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার বিলোপ সাধন’ এর জায়গায় সাম্প্রদায়িকতার পাশে যুক্ত হবে ‘মৌলবাদ’ শব্দটি।

আর ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন’ লাইনে

সন্ত্রাসের আগে ‘জঙ্গিবাদ’ শব্দটি বসবে।

ইউনিয়ন কাউন্সিল পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ‘স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড’ গঠন করা হবে।

জেলা, মহানগর ওয়ার্ড, থানা, পৌর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ১০ জন বাড়িয়ে ১৮০ জন করার প্রস্তাব রয়েছে।

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত ভেঙে প্রার্থী হলে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে একটি প্রস্তাবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!