1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
করোনায় একদিনে ভারতে মারা গেলেন ৫০ চিকিৎসক ভারতে সব রেকর্ড ভেঙে একদিনে ৪৩২৯ প্রাণহানি রোজিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দেশে বিশেষ অভিযান চালাবে ইন্টারপোল সভাপতি-সেক্রেটারি ছাড়াই শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করলো সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে যুবলীগের আলোচনা ধর্মপাশায় বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেল ২ কিশোরী দিরাইয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে স্বামীর আত্মহত্যা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন অপশক্তিকেই ছাড় দেননি: এমপি মানিক তাহিরপুরে শশুর বাড়িতে এসে পানিতে ডুবে জামাইয়ের মৃত্যু

বাংলাদেশে আসা হাজার পাকিস্তানী ভিসার মেয়াদ শেষে লাপাত্তা!

  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১৬, ৩.০৭ পিএম
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্স::
বৈধ পথে বাংলাদেশে এসে আত্মগোপন করেছেন কমপক্ষে এক হাজার পাকিস্তানি নাগরিক। ২০১৩-১৪ সালে দেশে ঢোকা এই পাকিস্তানিদের ভিসার মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও তারা এখন লাপাত্তা। তারা এখন কোথায় কীভাবে আছেন, কী করছেন তার কোনো হসিদ  নেই পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর নানা কারণ দেখিয়ে ওই পাকিস্তানিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তানি সামরিক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)’র জড়িত থাকার সন্দেহ তীব্র করেছে এই আত্মগোপনকারীরা। এনিয়ে ইতোমধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম) ও আইএসআই মুখপাত্র।

অনুসন্ধানে প্রকাশ, লুকিয়ে থাকাদের মধ্যে আহলে সুন্নতপন্থী মাদানী তাবলীগ জামায়াতে আসা উঠতি বয়সী পাকিস্তানির সংখ্যাই বেশী। আরো রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বিভিন্ন বয়সী পাকিস্তানি নারী-পুরুষ। যারা তাদের এ দেশীয় আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করার জন্য এসেছেন। এছাড়াও আছেন বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে দেশে ঢোকা পাকিস্তানিরা। যাদের মধ্যে ‘ক্যামিক্যাল’ ব্যবসায়ীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই আত্মগোপনকারীদের অধিকাংশের ভিসার মেয়াদ ২০১৪-১৫ সালে শেষ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে ঢোকার সময় ইমিগ্রেশনে দেয়া তথ্যে তারা স্থানীয় যে ঠিকানায় থাকার কথা বলেছেন, সেখানে গিয়েও তাদের খুঁজে পায়নি পুলিশ। এর মধ্যে অনেকে আবার খোদ পাকিস্তান দূতাবাসের ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন। এদের খুঁজতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীগুলোকেও এদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। গুলশানের ঘটনার পর অভিযানের মাত্রা ও সতর্কতা, দুটোই তীব্র হয়েছে।

কমপক্ষে একশ আত্মগোপনকারী পাকিস্তানির নাম, পার্সপোর্ট নম্বরসহ ভিসা সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহে রয়েছে। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে দেশের সিকিউরিটি কন্ট্রোল অফিসার (এসসিও) এবং এসবি’র উপ-মহা পরিদর্শক (ডিআইজি, ইমিগ্রেসন) মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় আমাদের।

মোট কত জন পাকিস্তানি বৈধ বা অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কান্ট্রিওয়াইজ (দেশভিত্তিক) এই ইনফরমেশন (তথ্য) এই মুহুর্তে এভাবে দেয়া যাবে না। যে অফিসারেরা এনিয়ে কাজ করেন তাদের কাছ থেকে ইনফরমেশন নিয়ে জানাতে হবে।’ এবিষয়ে তিনি পরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।

গত ৩০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জাতীয় সংসদকে জানান, ইমিগ্রেশন ডাটাবেজ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে এক লাখ ১২ হাজার ৪৮৫ জন বিদেশী নাগরিক আছেন। যার মধ্যে ৯১০ জনের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চে অবৈধ বিদেশীদের তালিকা সংরক্ষিত আছে। তাদের শনাক্তকরণের জন্য প্রতিদিনই স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীর সন্ধান পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

১ জুলাই গুলশান হামলার পর এইচটি ইমাম এক টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, ‘গুলশানের ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) ও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগসাজশে।’ তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে পাকিস্তান দাবি করে, গুলশান হামলার ঘটনায় আইএসআই কোনো ভাবেই জড়িত নয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘তারা সরাসরি তো নয়ই, পরোক্ষে ভাবেও জড়িত নয়।’ বাংলাদেশের এমন অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘প্ররোচনামূলক’ আখ্যা দেয়া হয়। এর আগে গুলশানের ঘটনায় দু:খপ্রকাশ করে দেশটির সরকার বলেছিলো, ‘বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে বলে পাকিস্তান আশাবাদী।’

গুলশান হামলার পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের একাধিক গণমাধ্যম এই ঘটনার সাথে আইএসআই’র সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ করে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাত দিয়ে তারা বলে, ‘বাংলাদেশ ও ভারতে হামলা শানানোর জন্য আইএসআই এবং আইএস(ইসলামিক এস্টেট) যদি নিজেদের মধ্যে কোনও সমঝোতা করে নেয়, তাতেও আশ্চর্য হবে না নয়া দিল্লি।  কারণ তারা মনে করে, ভারত অথবা বাংলাদেশের উপর হামলা যে দেশ বা সংগঠনই ঘটাতে চাক না কেন, পাকিস্তানের কৌশলগত সমর্থন বা সাহায্য না নিয়ে তা করা কার্যত অসম্ভব।’

বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশানে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে আটক হন পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা আবরার আহমেদ খান। ওই সময় ইসলামাবাদে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে কয়েক ঘন্টা নিখোঁজ করে রাখা হয়। তারও আগে গত বছরের শেষের দিকে পাকিস্তান দূতাবাসের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ‘যোগসাজশের’ অভিযোগ ওঠে। এ জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দেয়া হলে পাকিস্তান কোনো কারণ ছাড়াই ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে ফিরিয়ে আনতে বলে।

এর আগে ২০১০ সালের ২৫ মার্চে একটি বিশেষ ট্রাব্যুনাল , আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করে বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে দখলদার বাহিনীর দেশীয় অনুচরদের দ্বারা সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের এই প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করছে আসছে পাকিস্তান।  যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে, সাজার বিরোধীতা করে দেশটি রাষ্ট্রীয়ভাবেই একের পর এক বিবৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের বিচারে ২০১৩ সালে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর এর বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয় পাকিস্তান। একই অপরাধে দ-িত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের পরও এক বিবৃতিতে উদ্বেগের কথা জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত ১০ মে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির পরও তারা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমনকী নিজেদের জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাবও পাশ করিয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যমান উত্তেজনার জেরে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি ও ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে তলব, পাল্টা তলবের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি উঠেছে এ দেশের জাতীয় সংসদেও।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের সাথে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এটাই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় পাকিস্তানের তৎকালীন ডেপুটি হাইকমিশনার ইরফান রাজাকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। তবে তখন পরিস্থিতি এতটা ঘোলাটে হয়নি।

এর আগে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে একটি সেনাঅভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিলো। এই অভ্যুত্থানে জড়িতদের ‘ধর্মান্ধ’এবং ‘ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অতিমাত্রায় কট্টর’ বলে উল্লেখ করেছিলো সেনাসদর মুখপাত্র। পরবর্তী এ ব্যাপারে উইকিলিকসের ফাঁস করা সৌদি নথিতে বলা হয়, ঘটনার অন্যতম হোতা ছিলেন সৈয়দ জিয়াউল হক নামের ‘মেজর’ পদ মর্যাদার এক সেনা কর্মকর্তা। আর্টিজান ট্রাজেডির পর তাকে নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেখানে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের বরাত দিয়ে তারা জানান, চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল ২০১১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে গিয়ে এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা-ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার বাংলাদেশ শাখা আনসার আল-ইসলামের সঙ্গে এই মেজর জিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছিলো আরো আগে। ২০১৩ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর জিয়ার নাম বেরিয়ে আসে। তখনই জানা গেছে, আইএসআই’র প্রত্যক্ষ সহায়তাপুষ্ট আরেক নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)’র নেতাদের সাথেও জিয়ার সুসম্পর্ক রয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দুই পাকিস্তানিসহ জেএমবির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে কিছু জিহাদি বই, বিদেশি মুদ্রা, পাসপোর্ট  এবং একটি ‘স্পাই-মোবাইল’ ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ তখন বলেছিলো, ‘স্পাই-মোবাইল’ ফোনটি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার।  এ ঘটনায় আটক পাকিস্তানি নাগরিক ইদ্রিস শেখের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো দেশটির বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের নারী কর্মকর্তা ফারিনা আরশাদের।

সৌদি নথি মতে, ২০১১ সালের ওই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা হয়েছিলো হংকং, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায়। লক্ষ্য ছিলো সেনাপ্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো। এ অভ্যুত্থানের সমন্বয়কারী ছিলেন  বাংলাদেশের  স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মৃত্যুদ-প্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা শরিফুল হক ডালিম(বর্তমানে মৃত)। অর্থায়ন করেন হংকং প্রবাসী  বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ। এই ব্যবসায়ী নিষিদ্ধঘোষিত আরেক সংগঠন হিযবুত তাহরীরে সাথে যুক্ত বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

গুলশান হামলার পর আটক হওয়া হাসনাত রেজা করিমও হিযবুত তাহরীরকে পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটি থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। এই সংগঠনসহ বাংলাদেশে সক্রিয় প্রতিটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে আইএসআই’র সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দারা দাবি করেন, আইএসআই এ অঞ্চলের সবগুলো জঙ্গি সংগঠনের জনক। তারা বিভিন্ন নাম বা ব্যানারের তলে বিভিন্ন শ্রেণির জঙ্গিদের সমবেত করছে। ক্ষেত্র অনুযায়ী এদের কর্মি বাছাই, নিয়োগ ও মগজ ধোলাই প্রক্রিয়াও ভিন্ন। তবে সবগুলো সংগঠনের উদ্দেশ্য একই, ইসলামিক শাসন কায়েমের নামে অরাজকতা তৈরী করা।

অন্যদিকে পুনরায় হামলার হুমকী দিয়ে সিরিয়া থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় অংশ নেয়া বাংলাদেশি জিহাদী তাহমিদ রহমান শাফি বছরখানেক আগে বিয়ে করে স্বস্ত্রীক তুরস্কে গিয়েছিলেন। সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত এই দেশটিও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের বিরোধীতা করে আসছে। মে মাসে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে তুরস্ক ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তীব্র ভাষায় ওই ফাঁসির নিন্দা জানায়। এর কিছুদিন পরই দিল্লিতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ড. বুরাক আকচাপার এক স্বাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য ‘বিরাট এক ভুল’ হিসেবে দেখছে তুরস্ক।

এর আগে গত মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)’র মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আইএস খুঁজতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত যে সব জঙ্গিদের ধরা গিয়েছে, তারা সকলেই জেএমবি-র সদস্য। এদের সংগঠিত করার কাজে ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসও সক্রিয়।’ এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশী গোয়েন্দারা মূলত পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের দূতাবাসকে নদরদারিতে রেখেছে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিরোধীতায় সক্রিয় এই তিনটি দেশই আইএস’কে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্য মতে, আইএস’কে সাহায্য করতে প্রায় দেড়শো কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে আইএসআই’কে ভাড়া করা হয়েছে। আর এই সংযোগের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে সৌদি আরবের। তাছাড়া গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যক জঙ্গি তুরস্ক হয়েই সিরিয়া ও ইরাকে গিয়েছেন। তবে ‘আইএস’ ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বদলায়নি। সরকার এখনো বলছে, ‘এ দেশে আইএস নেই।’ এর আগে দেশে সংগঠিত ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার জন্য ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকেও দায়ি করেছিলো এই সরকার।

২১০উল্লেখ্য, গুলশান দুই নম্বরের স্প্যানিস হোলি আর্টিসান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে পহেলা জুলাইয়ের হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ জন নিহত এবং দুই পুলিশ সদস্য শাহাদাতবরণ করেন। নিহতদের মধ্যে নয় জন ইতালীয়, সাত জন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি। এ ঘটনায় জড়িত অস্ত্রধারীদের নিজেদের সদস্য বলে দাবি করেছে আইএস। চার দিন পর প্রকাশ করা এক নতুন ভিডিও বার্তায় তারা বাংলাদেশে আরো হামলার হুমকী দিয়েছে।

সূত্র: নিউজনেক্সটবিডি ডটকমpak-1

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!