1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সুনামগঞ্জের দুর্যোগপীড়িতদের পাশে ‘লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও প্রকাশক’ বৃন্দ সাঁওতাল বিদ্রোহ, নিপীড়িতের মাঝে দ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা : ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিধি-নিষেধ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে হবিগঞ্জের শফির প্রাণদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড সুনামগঞ্জে বন্যায় মোট মৃতের অর্ধেকের বেশি দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা ‘প্রাথমিকে নিয়োগ হবে আরও ৩০ হাজার শিক্ষক’ ‘দুষ্টু আমলাদের চাতুরির’ কারণে আইনকানুন পরিবর্তন করা যাচ্ছে না পদ্মা সেতু রক্ষার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে : ওবায়দুল কাদের সারা দেশে পশুর হাট বসবে ৪৪০৭টি, পরতে হবে মাস্ক ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই বছর দেরি : প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদ ফসল উৎপাদনে ১৭২ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে একনেকে

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮, ৬.১০ এএম
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক ::
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যথেচ্ছভাবে বালাইনাশক রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সক্ষম করে তোলা যাবে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও টেকসই উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যেরও উন্নতি সম্ভব হবে বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
দেশের ৬১ জেলার ৩১৭টি উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন’। ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকার প্রকল্পটি এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে। অনুমোদন পেলে চলতি অক্টোবর মাস থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের নতুন নতুন পোকামাকড় ও রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এগুলো দমনে জমিতে যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বালাইনাশক রাসায়নিক। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখি, অনুজীব ইত্যাদি বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে এসব রাসায়নিকের ব্যবহারে। আবার অনেক অপ্রধান ক্ষতিকর পোকা প্রধান ক্ষতিকর পোকায় পরিণত হওয়ায় তাদের কীটনাশকের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ও উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
মন্ত্রণালয় আরও বলছে, কৃষি ক্ষেত্রে বালাই ব্যবস্থাপনায় কেবল বালাইনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি তা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। কৃষকরা ফল ও সবজির ফলনে এক মৌসুমেই ঘন ঘন অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে বালাইনাশক ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে দেশে খাদ্য সংরক্ষণ, ফল পাকানো ইত্যাদি কাজেও ফরমালিন, কার্বাইড, ইথিলিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর প্রবণতা অনেক বেড়েছে।
এসব কারণেই পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম খরচে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন’ প্রকল্পটি। এতে পরিবেশের সুরক্ষা ও কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে। একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদিত হলে তা পুষ্টির চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৩৫ হাজার ৫৬০টি জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাই দমন ব্যবস্থাপনা প্রদর্শনী স্থাপন; ২০টি আইপিএম মডেল ইউনিয়ন স্থাপন; ৩১৭টি স্কুলে আইপিএম (পাইলট কার্যক্রম) পরিচালনা; ধান, ভুট্টা, সবজি, ফল বিষয়ক ৮ হাজার ৩৯১টি কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালনা; ৪০০ জনের বিভাগীয় প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ; ৯৯০ জন কৃষকের প্রশিক্ষণ এবং ১ হাজার ৫৮৫টি আইপিএম ক্লাবকে সহায়তা দেওয়া।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জনসাধারণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও টেকসই ভিত্তিতে গ্রাম অঞ্চলের কৃষি পরিবারের প্রকৃত আয় বাড়ানো; পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি ও জলবায়ুর প্রভাব সহিষ্ণু প্রযুক্তির ব্যবহারসহ আধুনিক কৃষি চর্চা আত্তীকরণকে উৎসাহিত করা; লবণাক্ততা, জলমগ্নতা ও অন্যান্য চাপসহিঞ্চু শস্যজাত প্রচলন করা এবং ক্ষুদ্র পরিসরের সেচ প্রযুক্তির প্রসার ও সেচের জন্য ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়েছে। নিরাপদ ফসল উৎপাদনের প্রকল্পতেও এই বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের তখনকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য, বর্তমানে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী একনেকের জন্য তৈরি সার-সংক্ষেপে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম খরচে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!