স্টাফ রিপোর্টার::
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বালুর মাঠে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আকবর আলী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ পদ দাস, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ কুমার রায় বাপ্পী, সাংগঠনিক সম্পাদক সেতুল বাবু দাস, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অমর চক্রবর্তী ও রিংকু চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব কান্তি দাস, বলাই এষ, বিধান দাস, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক কালারচাঁন এবং জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতা কৃষ্ণ তালুকদার সবুজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ছয় দিনব্যাপী এ উৎসবে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় মোট ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবকে ঘিরে পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ভক্তরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপে গিয়ে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়দের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির জেলা সুনামগঞ্জের মানুষ আবারও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে ছয় দিন ভক্তদের মাঝে অবস্থানের পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নৌকায় চড়ে কৈলাসে স্বামীর গৃহে ফিরে যান দেবী। এ সময় ভক্তদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।