1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

এবার ঢাকঢোল পিটিয়েও নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি হাওরের ফসলরক্ষা বাধের কাজ

  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ, ২০১৮, ৭.২৭ এএম
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জ জেলায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের নির্ধারিত সময় বুধবার শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও বুধবার পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল ৬৫ ভাগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে- বাঁধের পুরো কাজ শেষ হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
গেল বছর পাহাড়ি ঢলে হাওরের বাঁধ ভেঙে সম্পূর্ণ বোরো ফসল তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কৃষক পরিবার। ফসল হারানোর ধকল হাওরপাড়ের কৃষকরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সরকারি সাহায্য ও ধার-কর্জ করেই দিন কাটছে তাদের।
বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র মাধ্যমে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী/খাল পুনঃখননের জন্য স্কীম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকল্পে জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে জেলা কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। প্রত্যেক কমিটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিকে সদস্য সচিব করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে করা হয় উপদেষ্টা। ৫২টি হাওরে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে মন্ত্রণালয়ে ১৭৭ কোটি টাকা বাজেট চাহিদা পাঠানো হয়।
তবে শুরুতেই পিআইসি কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। নির্ধারিত তারিখ পেরুনোর পর একটি পিআইসিও গঠন করা যায়নি। পরে ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় প্রায় এক মাস বিলম্বে। সর্বশেষ জেলার ১১টি উপজেলায় ৯৩৫টি পিআইসি কমিটি গঠন হয়। ইতিমধ্যে কাজের জন্য ১২২ কোটি টাকা উপজেলা পর্যায়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
টাকা সমস্যা না থাকলেও প্রত্যেক উপজেলায় বাঁধের কাজের ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। এছাড়াও কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গোড়া থেকে গর্ত করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, অপ্রয়োজনীয় বাঁধ, সড়কের উপর বাঁধ, হাওরে জমি না থাকা সত্ত্বেও পিআইসি কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি, বাঁধে বাজেট থাকার পরও দুরমুজ না করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন লাগাতার নানা কর্মসূচি পালন করছে। এদিকে, বাঁধে অনিয়মের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু এসওরাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পর্যন্ত জেলার কোনো উপজেলায় শতভাগ কাজ শেষ হয়নি। কাজের অগ্রগতিতে এগিয়ে আছে সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জ উপজেলা। কাজের অগ্রগতিতে পিছিয়ে আছে দিরাই ও শাল্লা উপজেলা। তবে উপজেলা পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি তথ্য জানাতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলার সার্বিক কাজের অগ্রগতি জানানো হয়েছে ৬৫ ভাগ। জেলার যে ১১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার আছে সেগুলোর কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, যথাসময়ে পিআইসি কমিটি গঠন, ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ কাজ শুরু হলে বুধবারের ভেতরের সব হাওরের কাজ শেষ হয়ে যেত। যেহেতু পিআইসি গঠন ও কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে তাই অন্য বছরের মত এবারও কৃষকরা তাদের ফসল নিয়ে শঙ্কিত। যদি আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল আসে তাহলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় অনেক হাওরে কাজের অগ্রগতি ৫০-৬০ ভাগ। আবার কোথাও কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। তবে আশা করছি ১০-১৫ দিনের মধ্যে সব কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিকী ভূইয়া বলেন, বৃষ্টিসহ কিছু কারণে বাঁধের কাজে সমস্যা হয়েছে। তাই কাজ শেষ হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শেষ হবে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!