স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী, স্ত্রী ও পুত্রসহ একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতেরা হলেন, গ্রামের নূরুল আমিন (৬৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৫০) ও ছেলে ফরহাদ শাহ (৩০)। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল ওঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আমিন ও তার ছেলে ফরহাদ গ্রামের বাড়িতে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। সোমবার দুপুরে দোকান সংস্কারের কাজ করছিলেন তার ছেলে ফরহাদ। মাথার উপর ছিল পল্লী বিদ্যুতের লাইন। সংস্কারের জন্য আনা টিন দোকানঘরের চালে লাগানোর সময় পল্লীবিদ্যুতের ঝূকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ফরহাদ। ছেলের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন বাবা নূরুল আমিন ও মা ফাতেমা বেগম। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা ও মাও বিদ্যুতায়িত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কিন্তু দুর্গম এলাকার কারণে বিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিসক বাবা মা ও সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারে কান্নার রোল ওঠে। স্বজনরা পল্লীবিদ্যুতের ঝূকিপূর্ণ তারকে এজন্য দায়ি করেছেন।
নিহত ফরহাদের মামা ফয়েজ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দোকানে কাজ করার সময় বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আমরা ভাগ্না, বোন ও বোন জামাই মারা গেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, দুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মৃণাল কুমার কু- এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি।