স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে বিআইডব্লিউটিএর নামে ইজারাদার কর্তৃক অতিরিক্ত টোল টেক্স আদায়ের নামে চাঁদাবাজি, মাত্রাতিরিক্ত টোল আদায় এবং নৌকা মালিক শ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি। বৃহষ্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে তারা এই স্মারকিলিপ দেন।
স্মারকলিপিদে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি, যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে চলাচলকারী নৌকা মালিকরা যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে টোল আদায়কারী ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হচ্ছেন। ইাজারাদার কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো টোল আদায় করছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ফাজিলপুর এলাকার একই স্থানে প্রতি ঘনফুটে বিআইডব্লিউটিএ এর নামে ৩ টাকা, খাস কালেকশন এর নামে ১ টাকা ও ফাজিলপুরের টুলট্যাক্সের নামে ১.৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। উপজেলার শ্রীপুর ডাম্পের বাজার পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ প্রতি ঘনফুটে ৩ টাকা আদায়, কোটগাড়ির নাম করে প্রতি ঘনফুটে আরও ২ টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মে টোল টেক্সের পরিমাণ সাইনবোর্ডে লেখা থাকার কথা থাকলেও কোথাও লেখা নেই। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদার চক্র।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, অন্যায্য টোল টেক্স আদায়ের বিরোধীতা করলে ইজারাদারের কর্মচারীরা নৌ-শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করে। অনেক শ্রমিকরা মার খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে নৌকা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এই চাদাবাজি ও ইচ্ছেমতো টোলটেক্স চলতে থাকলে শতো শতো নৌকা মালিক ও হাজার হাজার শ্রমিক কাজ বাদ দিয়ে পথে বসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অভিযোগপত্রে অবিলম্বে যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে চলাচলকারী নৌকাসমূহের টোল/ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ে উন্মুক্ত স্থানে/টোল/ট্যাক্স আদায় করা, আদায়স্থলে টোল/ট্যাক্স এর হার প্রকাশ্যে টানিয়ে টাকা আদায়ের রশিদ প্রদানের আহ্বানও জানান তারা।
যাদুকাটা নদী নৌকা যালিক সমিতি তাহিরপুর মোঃ রাখাব উদ্দিন বলেন, আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা জেলা প্রশ্রাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি। প্রশাসন সাড়া না দিলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।