1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৫:১১ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ছাত্রীকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৭, ৪.৪৭ পিএম
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্স::
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয় তরুণীটিকে। তবে শেষপর্যন্ত তার পরিচয় মিলেছে। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ওই তরুণীর নাম মোছা. জাকিয়া সুলতানা রূপা (২৭)। বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আমানবাড়ি গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মো. জেলহক প্রামানিকের মেয়ে তিনি।

বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে এলএলবি শেষ বর্ষে অধ্যায়ণরত ছিলেন রূপা। পাশাপাশি একটি কম্পানির প্রোমোশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি। তার কর্মস্থল ছিল ময়মনসিংহ জেলা সদরে।

ঘটনার দিন টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকার পঁচিশ মাইল নামক স্থান থেকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রূপাকে। এর তিন দিন পর গতকাল সোমবার ছবি দেখে লাশ সনাক্ত করেন নিহতের বড় ভাই মো. হাফিজুর রহমান। বর্তমানে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
মেধাবী ওই তরণীর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের পঁচিশ মাইল এলাকার সুমী নার্সারির নিকট রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় লাশ হিসেবে উদ্ধার করে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানা পুলিশ। পরে মধুপুর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ওসি মো. সফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম, অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পরে থানায় নেওয়া হয় লাশ।

রূপাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে অপরাধীরা তার লাশ সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়- এমন ধারণা থেকে শনিবার মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে একই দিন ময়নাতদন্ত শেষে মধুপুর থানা পুলিশ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করে।

ঘটনার তিন দিন পর গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবরের ছবি দেখে লাশ শনাক্ত করেন নিহতের বড় ভাই মো. হাফিজুর রহমান। ওই ঘটনায় রাতেই মধুপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে গত শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী। পরে গ্রেপ্তার করা হয় বাসের চালক হেলপারসহ পাঁচ ধর্ষণকারীকে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা মধুপুর থানা পুলিশের কাছে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করে। তাদের কাছ থেকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি। তিনি বলেন, “তাদের মধ্যে তিনজন ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাদেরকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। ”

নিহতের বড় ভাই হাফিজুর জানান, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে গত শুক্রবার বগুড়ায় যান তার বোন। পরীক্ষা শেষে এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) বাসে ওঠেন তিনি। ওই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় তিনি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় নেমে যান। আর ওই বাসেই ময়মনসিংহে পৌঁছানোর কথা ছিল রূপার।

হাফিজুর বলেন, “সঠিক সময় রূপা ময়মনসিংহে না পৌঁছানোয় সহকর্মীরা তার মোবাইলে ফোন করেন। এক যুবক ফোনটি ধরে বলেন, ফোনের মালিক ভুল করে সেটি ফেলে গেছেন। এরপর সংযোগ কেটে দেন। এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। ”

হাফিজুর আরও বলেন, “শনিবার সকালেও রূপা কর্মস্থলে না যাওয়ায় তার অফিস থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের কাছ থেকে রূপার নিখোঁজ থাকার কথা জানতে পেরে আমরা ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। পরে মধুপুরে একটি লাশ পাওয়ার খবর মিডিয়ায় দেখে আমরা থানায় যাই। ”

মধুপুরের ওসি শফিকুল বলেন, “রূপার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার রাতেই বাসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন হাফিজুর। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ছোঁয়া পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার, সহকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায় তাদের কাছে। ছোঁয়া পরিবহনের বাসটিও জব্দ করা হয়। ”

ওসি জানান, লাশ উদ্ধারের পর আলামত দেখে সন্দেহ হওয়ার কারণে অপমৃত্যুর মামলা না করে প্রথম দিনই পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়েছিল। বাসের কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেই সন্দেহেরই সত্যতা পান তারা।

ওসি বলেন, “ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, কালিহাতী থেকে মধুপুর পর্যন্ত রাস্তায় চলন্ত বাসে পর্যায়ক্রমে রেপ করা হয় মেয়েটিকে। ” তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, মেয়েটি তাদের বলেছিল, সঙ্গে যা টাকা-পয়সা আছে, তা নিয়ে যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে, মাথা থেঁতলে তাকে হত্যা করে বাসের কর্মচারীরা লাশ রাস্তায় ফেলে চলে যায়। ”

তিনজনকে আদালতে পাঠিয়ে বাকি দ্ইুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখার কথা জানালেও গ্রেপ্তার ওই পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেননি ওসি।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!