1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ আওয়ামী লীগ রাজপথে প্রস্তুত : সেতুমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তাপমাত্রা কমতে পারে, বৃষ্টির সম্ভাবনা কৃষিতে আরও সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ শান্তিগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হলেন শাহ্ মো. কামরুজ্জামান আগামীকাল জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী ১৬ দেশে মাংকিপক্স শনাক্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিএনপি’র বক্তব্য নতুন ষড়যন্ত্রের বহির্প্রকাশ : সেতুমন্ত্রী

অস্বাভাবিক পানি বাড়ছে : ৬ হাওরের ১৭৫ হেক্টর জমির ধান কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২, ৭.৫৩ এএম
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি::
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ৫টি উপজেলায় প্রায় ১৭৫ হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। প্রতিটি হাওরই এখন ঝূকির মুখে রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদ নদীসহ সীমান্ত নদী গুলোতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ ঘন্টা জেলার সব হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ তদারকি করতে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে জানায় গত তিনদিনে সুনামগঞ্জের সুরমার পানি ৩ মিটার বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘন্টায় বেড়েছে দেড় মিটার। যার ফলে প্রতিটি হাওরের বাঁধে চাপ সৃষ্টি করেছে পাহাড়ি ঢল। রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমার পানি ৫.৮৩ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সীমান্ত নদী যাদুকাটার পানি ৫.৯ মিটার এবং পুরাতন সুরমার পানি ৪.০৭ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিটি নদীতেই রবিবার সকাল থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে রবিবার উজানের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ছোট কানলার হাওরের ৫০ হেক্টর জমির কাচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গুয়া পাগুরা ও ধপজাত হাওরের ৩০ হেক্টর, মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশিকু-া ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরের ৩০ হেক্টর এবং তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ২৫ হেক্টর এবং শাল্লা উপজেলার বাগার হাওর ও খলাবন হাওরের প্রায় ৫০ হেক্টর একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এই উপজেলার ছায়ার হাওরের ৯০, ৯১ ও ৯২ নম্বর পিআইসির বাঁধেও ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় ছায়ার হাওর তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ৯০ নম্বর প্রকল্পের নড়বড়ে বাঁধে একাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি ছুঁইয়ে যাচ্ছে। ফলে জেলার বোরো ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ছায়ার হাওরটি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বৃহৎ এই হাওরটি সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলা নিয়ে বিস্তৃত। এই হাওরে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর, দিরাই উপজেলায় দেড় হাজার হেক্টর, নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এই হাওরটি এখন চরম ঝূঁকির মুখে রয়েছে। এই হাওরসহ জেলার ১৩৭টি হাওরের কৃষকরা এখন চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছেন। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের তা-বে তারা এখন দিশেহারা অবস্থায় আছেন।
শাল্লা উপজেলা হাওর বাচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, শাল্লার সবগুলো নদ নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নড়বড়ে বাঁধগুলো ঝূকিতে পড়েছে। রবিবার বিকেলে দুটি হাওরের প্রায় ৫০ হেক্টর জমির কাচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। জেলার বোরো ভা-ার খ্যাত ছায়ার হাওর এখন ঝূকির মুখে। এই হাওরের পাউবোর বিভিন্ন প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই ফাটল দিয়ে এখন পানি প্রবেশ করছে ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে।
এই উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, ছায়ার হাওরটি সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা উপজেলাসহ কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই হাওরের ৯০ নম্বর প্রকল্পে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রকল্পে পিআইসির লোকজন দুর্মুজ করেনি এবং দুর্বাঘাসও লাগায়নি। এখান পাহাড়ি ঢলের প্রথম ধাক্কাতেই বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা শত শত কৃষক এখন বাঁধে অবস্থান করছি। স্থানীয় গরিব লোকজনকে যে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করাব সেই সুযোগও পাচ্ছিনা। প্রশাসন এ খাতে কোন বরাদ্দও দিচ্ছেনা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জের প্রধান নদ নদীসহ সবগুলো সীমান্ত নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে হাওরের অভ্যন্তরীন প্রতিটি নদ নদীতেও পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টা পানি আরো বাড়তে পারে। তাই আমরা জেলার সকল কৃষকসহ সচেতন মানুষদের বাধে তদারকি বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, রবিবার অস্বাভাবিকভাবে পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৭৫ হেক্টর জমির কাচা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। বড়ো বড়ো হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলো ঝূকির মুখে পড়েছে। আমরা বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে কৃষকের উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করেছি। এভাবে পানি বাড়লে হাওরের ফসলরক্ষা করা সম্ভব হবেনা।
(শাল্লা উপজেলার খল্লিগ্রামের পাশে বাগার হাওর তলিয়ে গেছে রবিবার বিকেলে)

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!