স্টাফ রিপোর্টার ::
ডিলারশীপ নেওয়ার পরও সুনামগঞ্জের টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ডিলাররা পণ্য বিক্রি করছে না। ফলে ন্যায্যদামে পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত থাকছেন ক্রেতারা। ডিলারদের অতি লাভের মুনাফালাভের প্রত্যাশা থেকেই পণ্য উত্তোলন করছেনা বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। পণ্য না তোললে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে কালো তালিকাভূক্তির কথা জানিয়েছে প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে জেলায় ২০ জন টিসিবির ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার দু’জন ডিলারই পণ্য বিক্রি করছেন। পয়লা রমজান থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহর ও রাণীগঞ্জ বাজারে দুই ডিলার পণ্য বিক্রি করছেন। অন্যরা অতি মুনাফার সুযোগ না থাকায় পণ্য বিক্রি করছেনা। প্রশাসনের নির্দেশনা রয়েছে ট্রাকযোগে ব্যানার লাগিয়ে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে হবে।
জানা গেছে টিসিবি থেকে চানা, তেল ও চিনি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করার কথা। জেলায় টিসিবির ২০ জন ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন গ্রাহকই পণ্য বিক্রি করছেন না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পণ্য বিক্রি না করলে ডিলারশিপ বাতিল করার কথা থাকলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। যে কারণে সাধারণ জনগণ সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত থাকছেন।
পৌর শহরের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, রমজানে বাজারে সব জিনিষের দাম বেশি। এই সময়ে টিসিবির পণ্য সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করার কথা থাকলেও আমরা কিনতে পারছিনা। অথচ আমাদের সদরেও ডিলার রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা ডিলাররা সরকারের নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডিলার জসিম উদ্দিন বলেন, পণ্য এনে পোষায়না। গুণাগুণও ভালো নয়। বাজারের পণ্যের চেয়ে টিসিবির পণ্যের গুণাগুণও অনেক নিচে। তাই চিন্তা করছি লাইসেন্স সারেন্ডার করে দেব।
জগন্নাথপুরের ডিলার ধানেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি সরকারি নিদের্শনা মেনে ট্রাকযোগে পণ্য বিক্রি করছি। জনগণ সরকার নির্ধারিত কম মূল্যে পণ্য কিনতে পেরে খুশি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ডিলারদের নিয়ে সভা করে বলেছি পণ্য বিক্রি করার জন্য। ইতোমধ্যে দুইজন ডিলার বিক্রি শুরু করছেন। আশা করছি অন্যরাও করবেন। যারা বিক্রি করবেনা তাদের ডিলারশিপ বাতিল করে কালো তালিকাভূক্ত করা হবে।
