হাওর ডেস্ক::
স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আলোচিত চরিত্র হিরো আলম। তাঁর মারধরে আহত স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গতকাল বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদিয়া বেগম সুমি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই হিরো আলমের চারিত্রিক সমস্যা ছিল। সে একবার আমার ছোট বোনকে নিয়েও পালিয়েছিল। সংসদ নির্বাচন করে আলোচিত হওয়ার পর থেকেই সে বাড়িতে কম থাকে। দুই মাস পর সোমবার রাতে সে বগুড়া শহরতলির এরুলিয়া গ্রামের বাড়িতে আসে। রাতে বিছানায় শুয়ে টানা তিন ঘণ্টা মোবাইল ফোনে ঢাকার এক নারীর সঙ্গে কথা বলতে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে সে আমাকে পিটিয়ে আহত করে। ’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘হিরো আলম ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছে বলে শুনেছি। এ কারণে সে বগুড়ায় স্ত্রী-সন্তানের কোনো খবর রাখে না।
এর প্রতিবাদ করলেই আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে। ’
বগুড়া সদর থানার ওসি বদিউজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে হিরো আলম সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জের ধরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তাঁর শ্বশুর সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সুমির নেতৃত্বে বাড়িতে চড়াও হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁকে পেটানো হয়। পরে তিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে স্ত্রী-শ্বশুরসহ পাঁচজনের নামে এই অভিযোগ দেন।
বগুড়া সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা প্রথমে হিরো আলমের কথাই সত্যি ভেবেছিলাম। পরে তদন্তে জানা গেছে, হিরো আলমই প্রথমে তাঁর স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পিটুনি দেয়। ’ হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় জামাতাকে আসামি করে গতকাল সন্ধ্যায় থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যাই। মেয়েকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করেছি। পরকীয়া প্রেম ও দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জের ধরে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ’
গত রাত সাড়ে ১০টার দিকে হিরো আলম থানায় যান তাঁর দেওয়া অভিযোগের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে। তবে এর আগেই তাঁর শ্বশুর সদর থানায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় হিরো আলমকে থানা থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে থানাহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।