নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশি সাংবাদিকতা যখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই অগ্রযাত্রার সামনের সারিতে যাদের নাম উচ্চারিত হয়, আ. স. ম মাসুম তাঁদের অন্যতম। ব্রিটেনে বসবাসরত এই বাংলাদেশি সাংবাদিক শুধু সংবাদ সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকেননি—যুদ্ধ, দুর্যোগ ও উদ্বাস্তু মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন মানবতার কণ্ঠস্বর। দুই দশক ধরে তিনি দেশ বিদেশের বিপন্ন মানুষেরকে নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছেন। এর আগেও তিনি বিৃটেনের ১০০ শ্রেষ্ট বাঙালি মনোনীত হয়েছিলেন।
প্রায় ৬০টি দেশ ঘুরে সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০০ সালে প্রথম আলোতে কন্ট্রিবিউটর রিপোর্টার হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে তিনি চ্যানেল এস, বাংলা টিভি ও ইকরা টিভির মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় গণমাধ্যমে কাজ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজের পরিধি যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্ববোধ ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস।
প্রকৃতির ভয়াবহতা হোক কিংবা মানুষের তৈরি যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন ঘটনাস্থলে। নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তুলে এনেছেন মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌঁছে গেছেন সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। সবচেয়ে দীর্ঘ ও কঠিন সময় কাটিয়েছেন সিরিয়ায়—টানা ১৮ মাস ধরে ১১টি দেশের সীমান্তে শরণার্থী সংকটের খবর কভার করেছেন তিনি। উদ্বাস্তু শিশুদের কান্না, নারীদের অসহায়ত্ব ও বৃদ্ধদের নীরব যন্ত্রণাকে নিষ্ঠা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন বিশ্ববিবেকের সামনে।
এছাড়াও তিনি সংবাদ সংগ্রহ করেছেন পূর্ব আফ্রিকার দুর্ভিক্ষ, ইন্দোনেশিয়ার সুনামি, হাইতির সাইক্লোন এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়—রোহিঙ্গা সংকট থেকে।
এই বহুমাত্রিক ও মানবিক সাংবাদিকতার স্বীকৃতি মিলেছে প্রবাসেও। রবিবার ব্রিটেনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব আ. স. ম মাসুমের প্রতিষ্ঠিত মাল্টিমিডিয়া চ্যানেল ‘রানার টিভি’—যা তিনি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন—কে সবচেয়ে জনপ্রিয় নিবন্ধিত টিভি চ্যানেল হিসেবে ঘোষণা করে।
একই অনুষ্ঠানে তাঁকে ব্রিটেনের সেরা বাংলাদেশি সাংবাদিক হিসেবে সম্মাননা জানানো হয়। এ সময় তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক ও সেরা সাংবাদিকের স্বীকৃতিপত্র, যা তাঁর দীর্ঘদিনের সাহসী, নির্ভীক ও মানবিক সাংবাদিকতার প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি।
আ. স. ম মাসুমের সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রমাণ করেছেন সাংবাদিকতা মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা এবং নিঃশব্দ কণ্ঠগুলোকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া। মানবিকতার এই অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রাপ্ত সম্মাননাটি ব্রিটেনে ক্যানসারে আক্রান্ত সাংবাদিক সেবুল চৌধুরীর প্রতি উৎসর্গ করেন।