বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী এলাকায় অবস্থিত সাআইদৌলা (প্রাঃ) এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডে শ্রম আইন ভঙ্গ করে শ্রমিক ছাটাই, বিধি বহির্ভূত বেতন না দেওয়া, সাপ্তাহিক ছুটি না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে কর্মবিরতির পর সংশ্লিষ্ট দফতরের নোটিশে কাজে যোগ দিতে গেলে বাঁধা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে গিয়ে দেখা যায় কাজে ফেরার জন্য জড়ো হয়েছেন শতাধিক কর্মচারী। কিন্তু তাদেরকে কাজে যোগ দিতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে মৎস্য রপ্তানি করে থাকে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গত ৯ ডিসেম্বর থেকে শ্রমিকরা কারখানার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ন্যয্য অধিকার ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুসারে সুযোগ সুবিধার জন্য আন্দোলন করছেন। এ কারণে কারখানার দুই শ্রমিককে শ্রম বিধি অনুসরণ না করে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এর প্রতিবাতে সাধারণ শ্রমিকরা লাগাতার আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ও সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কম্পানির সংশ্লিষ্টরা আন্দোলনরত কর্মীদের কাজে ফেরার নোটিশ দেন। নোটিশে আগামী ৪ জানুয়ারি কাজে না ফিরলে চাকরি পরিত্যাগ হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই নোটিশ পেয়ে শ্রমিকরা শনিবার দুপুরে কারখানায় কারখানায় যোগ দিতে শতাধিক কর্মী কারখানা গেটে যান। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দারোয়ান গেট খুলে দেয়নি। তাই তাদেরকে কাজে যোগ দিতে কৌশলে বাধা দিয়ে মূলত তাদেরকে চাকুরিচ্যুত করতেই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক সুমন মিয়া বলেন, আমরা দাসের মতো কারখানায় কাজ করি। ছুটি পাইনা। নিয়ম অনুযায়ী বেতন পাইনা। নিয়োগের নির্দিষ্ট কাজের বাইরে আমাদের কাজ করানো হয়। আন্দোলনের পর আজ আমরা কাজে যোগ দিতে গেলে তারা বাধা দিয়েছে। তাই আমরা কাজে যোগ দিতে পারিনি। তারা কৌশলে আইন ভঙ্গ করে আমাদের চাকুরিচ্যুত করাতে চায়।
আরো একাধিক শ্রমিকের অভিযোগ এই প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ শ্রম আইনের তোয়াক্কা করা হয় না। সরকার নির্ধারিত নিম্নতম সঠিক মজুরি প্রদান করা হয়না। সামান্য দেরি হলে (৫ মিনিট) বেতন কেটে নেওয়া হয়। অসুস্থতাজনিত ছুটি ও নারীদের শারীরিক অসুস্থতায় বিশেষ ছুটির অধিকারও নেই।
কম্পানির ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রম আইন মেনে কাজে যোগ দিতে নোটিশ করেছিলাম। তারা চাকুরিচ্যুত দুই শ্রমিককে রেখে কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করায় আমরা তাদের কাজে যোগ দেওয়াতে পারিনি।