বিশেষ প্রতিনিধি::
পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর দু’জনের জন্যেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করায় জেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম রয়েছেন দলীয় চ্যালেঞ্জের মুখে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদকে নিয়েও চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। আজ ১৮ জুন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।
ইউসুফ আল আজাদ দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। জনপপ্রিয় জনপ্রতিনধি হিসেবে তার সুনাম আছে। তিনি সাচনাবাজার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবেও চারবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন। এবার এই উপজেলায় বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকায় গতবার বিএনপি থেকে নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শামছুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়া ও তার সমর্থকরাও ইউসুফ আল আজাদের পক্ষে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপির একটা অংশও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম শামীমের পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে। যার ফলে নির্বাচন জমজমাট হবে এমনটা আশা করছেন ভোটাররা।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন এবার জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আরো একটি ইস্যু নিয়ে মাঠ সরগরম রেখেছে। ‘সিলেটি-নন সিলেটি’ (স্থানীয় ও অস্থানীয়) ইস্যু এবার মাঠে অন্যরকম সাড়া ফেলেছে। নন সিলেটি প্রার্থী ইউসুফ আল আজাদ এবং সিলেটি প্রার্থী রেজাউল করিম শামীম নিজেদেরকে সকল শ্রেণির ভোটারের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলেও তাদের সমর্থকরা এই ইস্যু নিয়েই মাঠ গরম রেখেছেন এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই ইস্যু বাস্তবে কাজ করলে নির্বাচনে বিরাট ফ্যাক্টর হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে তার কর্মী সমর্থকদের নির্দেশনা দিয়ে নিজেও বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছেন। স্থানীয় মন্ত্রীও সমাবেশে ইউসুফ আল আজাদের প্রশংসা করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি ইউসুফ আল আজাদকে অনেক উচ্চতা থেকে দেখে তার প্রশংসা করেছেন। যে কারণে ইউসুফ আল আজাদও ভালো অবস্থানে আছেন বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।
জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররাও শ্রদ্ধাশীল। একজন সৎ, জনদরদী ও জাতির শ্রেষ্ট সন্তান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার বিশেষ কদর রয়েছে। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত কোন ইজম কাজ করবেনা। মানুষ ভালো মানুষ হিসেবে ইউসুফ আল আজাদকেই বেছে নিবেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল খালেক বলেন, রেজাউল করিম শামীমের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একজন যোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাকে মূল্যায়ণ না করায় ক্ষুব্দ তৃণমূল ও সাধারণ ভোটাররা এবার তার পক্ষে অবস্থান করছেন।
রেজাউল করিম শামীম বলেন, ভোটার-কর্মীদের টোপ দিয়ে এমপি সাব টানার চেষ্টা করছেন। প্রভাব বিস্তার করে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ সজাগ। সচেতন জনগণ ১৮ জুন এর জবাব দিবে।
ইউসুফ আল আজাদ বলেন, সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় ছয়বার জনপ্রতিনিধি হয়েছি। এবারও তারা আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিবেন এই বিশ্বাস আছে। নির্বাচনে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মানুষ। তাই আওয়ামী লীগের নৌকার পক্ষেই আছি। শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।