বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে বালু পাথরবাহী নৌকা থেকে চাঁদা উত্তোলনের ঘটনায় ছাতক পৌর মেয়র ও জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালাম চৌধুরী ও তার ভাই জেলা আ.লীগ নেতা শামীম চৌধুরী অনুসারীদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনার জের ধরে তাদের ৫ ভাইয়ের বন্দুকের লাইসেন্স বাতিল করেছেন জেলা ম্যাজেস্ট্রিট। এসব বন্দুক সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এই আশঙ্কায় আগ্নেয়াস্ত্র আইনের বলে লাইসেন্স বাতিল করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। পুলিশ সুপারের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজেস্ট্রিট এই আদেশ দেন। শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়েবপোর্টালে এই নোটিশ আপলোড করা হলেও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গত ৩০ মে।
উল্লেখ্য গত ৪ মে রাতে নদীতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে কালাম চৌধুরী ও তার ভাই শামীম চৌধুরীর অনুসারীরা বন্দুকযুদ্ধে জড়ায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শ্রমিক লীগ কর্মী ভ্যান চালক সাহাব উদ্দিন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামালসহ ৮ পুলিশ। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন অন্তত ৩০জনসহ অর্ধশত।
সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যা মামলা, পুলিশ এসল্ট মামলা এবং বিষ্ফোরক আইনে মামলাসহ তিনটি মামলা হয়।
এদিকে চাঁদাবাজিতে বৈধ বন্দুক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করায় পুলিশের বিশেষ শাখা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে। এর প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ কালাম চৌধুরীর ভাই শাহীন চৌধুরী, শামীম চৌধুরী, সেলিম চৌধুরী, কামাল চৌধুরী ও জামাল চৌধুরীর তুর্কি, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে তৈরি বিদেশি বন্দুকের লাইসেন্স বাতিল করেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ লাইসেন্স বাতিলের ঘটনা স্বীকার করেছেন।