1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
`কাচইরা’ বছরে সর্বনাশ হাওরে চেটেপুটে খেয়ে সুনামগঞ্জ ছাড়লেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার! সুনামগঞ্জে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত নিজের স্বার্থের জগতে ড. ইউনূসের যাদুর ছোঁয়া: দেড় বছরে তার যত বেআইনি কারবার! হাওরে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হওয়ার পথে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধান সুনামগঞ্জের ৫ আসনে কেন্দ্র ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির ৫ প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী নির্বাচন সামনে রেখে এমএফএস লেনদেনে কড়াকড়ি, ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ ৯৬ ঘণ্টা (আরও জানুন) ব্রিটিনে সেরা বাংলাদেশি সাংবাদিক নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জের মাসুম মালয়শিয়ায় বাংলাদেশের ছয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুত্রা মালয়েশিয়া ইউনিভার্সিটির ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন বিশ্বম্ভরপুরে র‌্যাবের অভিযানে মদ ও ভারতীয় কসমেটিক্স জব্দ

তাহিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য: নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেন না শিক্ষা অফিসার

  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১ জুলাই, ২০১৮, ১২.৪৪ পিএম
  • ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর::
তাহিরপুরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি। হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘন ঘন বদলিই ‘প্রধান বাণিজ্য’ উল্লেখ করে তাহিরপুরের একজন শিক্ষক বলেন,‘শিক্ষকদের কেউ এ নিয়ে কথা বলার সাহস পায় না। অভিযোগও কোথাও জানায় না, অভিযোগ জানালে,‘নানাভাবে তাদের হয়রানি করা হয়।’
হাওরাঞ্চলের উপজেলা তাহিরপুরে গত জানুয়ারি মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত অসংখ্য প্রাথমিক শিক্ষককে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে বদলি করা হয়েছে। নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে কাজ সারছেন তিনি।
উপজেলার প্রত্যন্ত স্কুল গোলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫০ জন। ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে এখানে ছিলেন ৩ জন। একজন প্রেষণে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন। আরেকজন প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষক। অন্যজন প্রধান শিক্ষক মকছুদুল ইসলাম। তাঁকে (মকছুদুল ইসলামকে) সম্প্রতি বাঘবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা ১৫০ জন। শিক্ষক আছেন ৩ জন। মখছদুল ইসলাম যোগদানের পর ১৫০ শিক্ষার্থীর এই স্কুলে শিক্ষক ৪ জন হলেও ৩৫০ শিক্ষার্থীর গোলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেবল একজন প্রাক প্রাথমিক শিক্ষক পাঠদানের কাজ সারছেন।
বাঘবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মকছুদুল ইসলাম কীভাবে ঐ স্কুল ছেড়ে চলে আসলেন প্রশ্ন করলে, তিনি বলেন,‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বদলি করেছে। আমার কী করার আছে? আমি আদেশ পালন করেছি।
উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতিষ চন্দ্র সরকার গড়কাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৯ মার্চ বদলি হয়েছেন। গড়কাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন তিনিসহ শিক্ষক ৫ জন। অথচ ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক এখন ২ জন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বরূপ চন্দ্র সরকার বুধবার বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ডিডিকেও জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক জ্যোতিষ চন্দ্র সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন,‘আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে বদলী হয়েছি। নীতিমালার বিষয়ে তারাই বলতে পারবেন।’
উপজেলার শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন ৩ জন। এর মধ্যেই প্রধান শিক্ষক অরুন চন্দ্র সরকার ঈদের ছুটির ২ দিন আগে রতনশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়েছেন। তিনি যোগদান করলে রতনশ্রীতে শিক্ষক হবে ৫ জন। শান্তিপুরে থাকবেন ২ জন।
প্রধান শিক্ষক অরুন চন্দ্র সরকার বদলি প্রসঙ্গে প্রথমে বললেন,‘শনিবার যোগদান করবো রতনশ্রীতে।’ কিছু সময় পরে আবার ফোন করে জানালেন, শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে রতনশ্রীতে যোগদান করবেন তিনি।
জানুয়ারি মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত এভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কেবল তাহিরপুরেই বদলি হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে রয়েছেন রামসিংহপুরের সহকারী শিক্ষক নিলুফার ইয়াছমিন, পৈন্ডুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা, লামাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাকী রানী তালুকদার, মনভোজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রীমা খানম। রীমা খানমের বদলি হয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক আদেশে।
তাহিরপুরের একজন শিক্ষক বলেন,‘প্রত্যন্ত এই হাওরাঞ্চলে অনেক শিক্ষক আছেন যারা কষ্ট করে গ্রামে লজিং থেকে শিক্ষকতা করছেন। এরা নীরিহ বা ঘুষের টাকার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। তারা বদলির জন্য গেলে কর্মকর্তারা বলেন,‘৫ শিক্ষকের নীচের স্কুল থেকে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। নীতিমালার বাইরে কোন বদলি হবে না। কিন্তু প্রভাব যাদের আছে, বা ঘুষ যারা দিতে পারে তাদের ক্ষেত্রে নীতিমালায় পথ বের করেন স্যাররাই (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা)।’ এই শিক্ষক জানান, গত ৬ মাসে কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষক নীতিমালা লঙ্ঘন করেই সুবিধাজনক স্থানে বদলি হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান,উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস স্যারকে টাকা দিলে সব কিছু সম্ভব,তিনি যোগদানের পর থেকেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চলছে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কর বলেন,‘সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সার্বজনীন করতে চায়। হাওরাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে স্কুল হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও দুর্নীতি আছে। অনেক প্রত্যন্ত স্কুলে শিক্ষক নেই। আবার সুবিধাজনক স্থানে ঘুষ দিয়ে বদলি হবার বিষয়টি ওপেনসিক্রেট। সরকারি দলের কর্মী হিসাবে আমরা লজ্জা পাই। তাহিরপুরে সম্প্রতি কিছু বদলি নীতিমালা অমান্য করেই হয়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম’এর কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর মুঠোফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়েও কথা বলা সম্ভব হয় নি।
এ বিষয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা মো. সাজ্জাদ বলেন, কোন বিদ্যালয়ে ৫ শিক্ষকের কম থাকলে ঐ বিদ্যালয় থেকে বদলি করাই যাবে না। প্রতিস্থাপন সাপেক্ষ বদলি হলে, প্রতিস্থাপন হবার আগে রিলিজ নিতে পারবেন না। তাহিরপুরে এমন হয়ে থাকলে যিনি রিলিজ দিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019-2024 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!