বিশেষ প্রতিনিধি::
মনোনয়নপত্র জমাদানের আগের দিন রবিবার সন্ধ্যায় এসে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের জনপ্রিয় তরুণ নেতা ও রাজনীতিতে মেইড ইন ছাত্রদল খ্যাত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে এক ডজন মামলা, হামলা, হুলিয়া এবং কারান্তরীন থেকে বিএনপির পক্ষে গত দুই দশক ধরে রাজপথে সোচ্চার আছেন কামরুল। তাকে মনোনয়ন দানের জন্য নির্বাচনী এলাকার চারটি উপজেলার বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা বিশাল সমাবেশ করে দলীয় মনোনয়ন পুনবিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। কামরুলকে মনোনয়ন না দেওয়ায় কান্নার রোল উঠেছিল নির্বাচনী এলাকায়। অবশেষে বিএনপি মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর আগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হককে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। আনিসুল হককে এর আগে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন কামরুল।
এদিকে রবিবার বিকেলে কামরুজ্জামান কামরুল তার তাহিরপুরস্থ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এসময় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে প্রার্থী হওয়ার দাবি জানান। বাড়িতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তিনি তাহিরপুরে মাঠে চলে আসেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ ভরে যায়। এসময় তিনি নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান সবাইকে। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের কান্না শুনে সুবিচার করবেন এবং যারা জেল, জুলুম সয়েছে, কারাগারে গিয়েছে শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্যায়ণ করবেন বলে বক্তব্য দেন। এর ঘন্টাখানেক পরেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র দেওয়া হয় কামরুজ্জামান কামরুলকে। এই খবরে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। অনলাইন ও অফলাইনে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
নেতাকর্মীরা জানান, কামরুজ্জামান কামরুল স্কুল ছাত্রদল, উপজেলা ছাত্রদল ও জেলা ছাত্রদলে নেতৃত্ব দিয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সালে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। উপজেলা নির্বাচন থাকাকালেই আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়। এর আগেও একাধিক মামলা দেয়। তিনি দীর্ঘদিন জেল খাটেন। গত ১৭ বছরে অন্তত একডজন মামলার আসামী ছিলেন কামরুল।
জানা গেছে যে উপজেলা নির্বাচনে কামরুল নির্বাচিত হয়েছিলেন সে নির্বাচনে সাধারণ মানুষ চাঁদা তুলে তার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করেন। এবারও মনোনয়নের লক্ষ্যে তার যতগুলো নির্বাচনী সমাবেশ হয়েছে সেখানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। এসব সমাবেশের ব্যয় নির্বাহ করেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা। তারা তাকে ব্যাংক চেক, নগদ টাকাসহ নানা উপকরণ উপহার দেন। কামরুজ্জামান কামরুলের এই জনপ্রিয়তা নিয়ে একাধিক জাতীয় সাংবাদিক সরেজমিন সাংবাদিক পাঠিয়ে কামরুজ্জামান কামরুলের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রতিবেদন করে বিএনপির হাইকমা-ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। বিএনপির একাধিক টিম মাঠে জরিপ করে জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি আতœত্যাগের কারণে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করে বলে জানা গেছে। এই প্রস্তাবের আলোকেই কামরুজ্জামান কামরুলকে অবশেষে মনোনয়ন জমাদানের আগের দিন দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমি কোনও নেতা নেই। জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন কর্মী। আমাকে নেতা বানিয়েছেন সাধারণ কর্মীরা। তারা আমার মনোনয়নের জন্য যেভাবে মাঠ সরগরম করে রেখেছেন, কেঁদেছেন তা শুনেছে কেন্দ্র। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এর আগে ঘোষনা দিয়েছিলেন ত্যাগীদের মূল্যায়ণ হবে। তিনি তার কথা রেখেছেন। তৃণমূল এই সিদ্ধান্তে খুশি।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা মিফতাহ সিদ্দিকী কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়নদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।