হাওর ডেস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঘোষণা করেছেন, গাজার নির্যাতিত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে সোমবার ইস্তাম্বুলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠনের আয়োজন করছে তুরস্ক।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফিদান বলেন, “এই বৈঠকে আমরা গাজা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত কী অর্জন করেছি তা পর্যালোচনা করব এবং ভবিষ্যতে গাজার মানুষের জন্য একসঙ্গে কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করব।”
তুরস্ক জানিয়েছে, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই দেশগুলোর প্রতিনিধিরা গত সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন।
এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগুস চাহকনার সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান বলেন, “গাজার মানুষের জন্য আশার একটি আলো দেখা দিয়েছে। আমরা চাই, সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।”
তিনি আরও বলেন, “বৈঠকে আমরা আলোচনা করব—কীভাবে গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা যায়, কোন কোন বাধা অতিক্রম করতে হবে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় আমাদের অবস্থান কী হবে।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে ফিদান বলেন, “নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করে গাজার নিরপরাধ জনগণের ওপর আবারও গণহত্যা শুরু করার অজুহাত খুঁজছেন। বিশ্ববাসীর চোখের সামনে গাজায় মানবতা প্রতিদিন ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে।”
গাজার সহায়তায় তুরস্কের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে তুরস্ক ৮১ সদস্যের একটি দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া দল পাঠিয়েছে, যারা সেখানে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে। তবে এখনো তারা ইসরায়েলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
ফিদান বলেন, “আমরা অব্যাহতভাবে কাজ করছি যাতে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়। তুরস্কের সেনাবাহিনীও যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক বাহিনীতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।”
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, তুরস্কের “ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান” থাকার কারণে তারা তুর্কি বাহিনীকে গাজায় ঢুকতে দিতে রাজি নয়। এ বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও অবহিত করেছে।
গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে হাকান ফিদান বলেন, “তুরস্ক নীরব থাকতে পারে না। গাজার মানুষ আজ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। আমরা তাদের পাশে আছি, এবং এই অবিচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তুরস্কের কণ্ঠ বন্ধ হবে না।”