হাওর ডেস্ক::
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে একটি চক্র জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সিস্টেমে জালিয়াতি করে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়েছে। তারা অন্যের সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির আগেই ভাঙিয়ে অর্থ নিজেদের ব্যাংক হিসাবেই স্থানান্তর করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী ৫০ লাখ টাকার উত্তোলন রোধ করেছে।
মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “যাদের কাছে পাসওয়ার্ড ছিল, তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদের হিসাবে অর্থ গেছে এবং যারা জালিয়াতিতে জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।”
জালিয়াতির কৌশল: একজন গ্রাহক বৃহস্পতিবার ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন। চার দিন পরে এটি ভাঙা হয় এবং টাকা স্থানান্তর করা হয় অচেনা ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব (এনআরবিসি ব্যাংক, দিনাজপুর)। পরে টাকা উত্তোলন করা হয় ঢাকার শ্যামলী শাখা থেকে।
একই দিনে ডাচ্-বাংলা ও এনআরবি ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকার জালিয়াতি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনজন সঞ্চয়পত্র ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করেছে যে তারা কখনও ভাঙার আবেদন করেননি বা ওটিপি পাননি।
তদন্ত চলছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংক নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম খান জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে, রিপোর্ট শিগগিরই পাওয়া যাবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রের মোট পরিমাণ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭১ কোটি টাকা। এগুলো প্রায় ১২ হাজার শাখা থেকে বিক্রি ও ভাঙা হয়।