মো. অলিউর রহমান::
ফকির লালন শাহের ১৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতীয় হাই কমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর সঙ্গীতসন্ধ্যা লালন সন্ধ্যা। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দুই বাংলার প্রখ্যাত শিল্পী, গবেষক, সংস্কৃতিপ্রেমী, তরুণ প্রজন্ম ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় মরমী কবি, দার্শনিক ও মানবতাবাদী ফকির লালন শাহকে, যিনি ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অনন্য প্রতীক। বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় জন্ম নেওয়া লালনের গান ও দর্শন আজও দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, জাতপাত ও আনুষ্ঠানিকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
এদিন বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয় লালন গীতির রানি খ্যাত সদ্যপ্রয়াতা কিংবদন্তি শিল্পী ফারিদা পারভীনকে (১৯৫৪–২০২৪)। তাঁর স্মরণে পরিবেশিত হয় তাঁরই গাওয়া গানের ভিডিও (যার অনুবাদ করেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় হাই কমিশনার মুচকুন্দ দুবে), স্বামী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিমের পরিবেশনা, শিষ্যা বিউটির কণ্ঠে লালনগীতি এবং অচিন পাখি কালচারাল একাডেমির ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিত পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, লালনের জীবনদর্শন দুই দেশের অন্তর্গত আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। ফরিদা পারভীন সম্পর্কে তিনি বলেন,তাঁর সঙ্গীত দুই বাংলার প্রজন্মকে এক সুতোয় গেঁথেছে। তিনি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে একে একে মঞ্চে আসেন লালনসঙ্গীতে অনন্য কণ্ঠস্বর চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়। কুষ্টিয়া থেকে আগত তুনতুন বাউল ও তাঁর দল পরিবেশন করেন প্রাণবন্ত বাউলসঙ্গীত। লালন বিশ্ব সংঘের লেখক আব্দেল মান্নান তাঁর বক্তব্যে লালনের জীবন, শিক্ষা ও দর্শনের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে ব্যান্ড “লালন”-এর (নেতৃত্বে সুমি) আধুনিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন গুণী অভিনেতা আফজাল হোসেন, যিনি লালনের দর্শনকে পরিবেশনাগুলোর মাঝে সুসংগতভাবে উপস্থাপন করেন।