স্টাফ রিপোর্টার::
ভাটি বাংলার ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের সাতবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এবং সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাবু করুনা সিন্ধু তালুকদার আজ শেষ বিদায় নিলেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় নিজ বাড়িতে তিনি পরলোকে পাড়ি জমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই জননন্দিত নেতা। রেখে গেছেন ৫ পুত্র, ১ কন্যা, অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও অগণিত গুণগ্রাহী, যারা আজ শোকাচ্ছন্ন। তাঁর মৃত্যু যেন একটি যুগের অবসান, যেন হাওরের আকাশে এক নিঃশব্দ বিসর্জন।
করুণার এই মহাপ্রস্থান সংবাদে তাঁর নিজ গ্রাম ছয়হারায় ছুটে আসে মানুষজন—কেউ নীরবে, কেউ অশ্রুসিক্ত চোখে। সর্বস্তরের মানুষ তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। কান্নার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ছয়হারা গ্রামের শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রজ্ঞাবান নেতার দ্বিতীয় পুত্র কাজল চন্দ্র তালুকদার বর্তমানে ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা একটি অনন্য উত্তরাধিকার।
হাওর অঞ্চল আজ এক প্রাজ্ঞ অভিভাবককে হারিয়ে শোকস্তব্ধ। উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে জানিয়েছেন আন্তরিক সমবেদনা।
বাবু করুনা সিন্ধু তালুকদার শুধু একজন জনপ্রতিনিধিই ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক আশ্রয়, এক নির্ভরতার প্রতীক। তাঁর জীবনভর নিঃস্বার্থ সেবা ও আদর্শ আজও মানুষকে পথ দেখায়। তাঁকে ভাটি বাংলা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে চিরকাল।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।