1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

হাওরের দুর্গত কৃষকের ত্রাণে দুর্নীতি: প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০১৭, ৬.০৬ পিএম
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি::
হাওরের ফসলহারা কৃষককে দেওয়া সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার ৮৭টি ইউনিয়নেই অধিকাংশ চেয়ারম্যান-মেম্বার স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে সরকারি অন্যান্য ভিজিএফ-ভিজিডি পাচ্ছে এমন লোকদেরও বিশেষ ভিজিএফ’র তালিকাভূক্ত করেছেন। বিভিন্ন স্থানে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। যার ফলে সরকারের মহৎ উদ্যোগের সফলতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত কৃষকরা। এদিকে বেসরকারি ত্রাণেও সমন্বয় নেই। দাতারা মিডিয়া আকর্ষণের জন্য তুলনামূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এমন স্থানেই ত্রাণ দিচ্ছেন। এতে দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা জরুরি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ত্রাণ তৎপরতায় সরকারিভাবে তদারকির দায়িত্বে থাকা অফিসারদের মধ্যেও উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের মনিটরিং কমিটিরও তৎপরতা দেখা যায়নি। বরং অনেক স্থানে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বারা তারা প্রভাবিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ হাওরের ফসলহানীর ঘটনায় সরকার জেলার দেড় লাখ কৃষককে মাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইউপি চেয়ারম্যানরা এক সপ্তাহে এই তালিকা তৈরি করে দেন। অভিযোগ উঠেছে তালিকাটিই করা হয়েছিল টেবিলে বসে। কৃষি বিভাগের পুরনো তালিকা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে তালিকা করায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়েছেন। তারপরে তালিকা চূড়ান্ত করার সময় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে তাকে ভোট দিয়েছেন এমন মানুষদেরই পছন্দ করে তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তালিকায় মৃত মানুষ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, লন্ডনী, একই পরিবারের ৭-৮জনসহ টাকা নিয়েও তালিকা তৈরির অভিযোগ আছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রামাণ্য প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও কোথাও এই অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার বা অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়নি অভিযুক্তদের। ফলে আগামীতেও এই গোষ্ঠী সরকারি বিশেষ ত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সহায়তা বঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে দুর্গম এলাকায় বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছছেনা। দাতারা সময় বাঁচাতে তুলনামূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো রয়েছে এমন স্থানকেই ত্রাণ দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগসহ ১৪দলের প্রতিনিধি দল এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিনিধিদলও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করেছে। আরো একাধিক সংগঠনও এই ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে। অন্যদিকে শাল্লা, দিরাই, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশাসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত ১৪ এপ্রিল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা সুনামগঞ্জে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে ক্ষতির তূলনায় অপর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যেও ত্রাণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। এই সভায় হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের সদস্য শহীদ নূর আহমেদ তার এলাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার ত্রাণ তৎপরতা তদারকির জন্য যাদেরকে নিয়োগ দিয়েছে তারা কেউ এলাকায় যাননা। তারা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে ঘরে বসেই ‘সুষ্ঠু ত্রাণ বণ্ঠন’ হয়েছে রিপোর্ট প্রদান করছেন। এই সভায় হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, হাওরের বাধ নিয়ে চরম দুর্নীতি হয়েছে। ফসল যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়েও অনিয়ম হয়েছে। ঘরে বসে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ও পুরনো কৃষিকার্ড তালিকা ধরে তালিকা করা হয়েছে। এখন ত্রাণ বণ্ঠন নিয়েও অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। প্রকাশ্যে ধারাবাহিক দুর্নীতি হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। তিনি সকল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
শাল্লা উপজেলার শাল্লা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তরণী দাস বলেন, জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে শাল্লা। সেখানে কোন বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছছেনা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে কারো দৃষ্টি নেই। তিনি বেসরকারি ত্রাণ দাতাগণকে শাল্লাসহ দুর্গম এলাকার দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ বলেন, মিডিয়া আকর্ষণের জন্য বেসরকারি দাতারা উন্নত এলাকায় ত্রাণ দিচ্ছেন। এতে দুর্গম এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পাচ্ছেনা। আবার সরকারি সহায়তার তালিকায়ও অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। সরকারি মনিটরিং কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বেপরোয়া হয়ে গেছে। এতে সরকারের সুফল প্রকৃত সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেনা।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় সরকার হাওরের কৃষকদের সহায়তা দিয়েছে। কোথাও অনিয়ম-দুর্নীতি হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এই নির্দেশনা মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেয়া আছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!