স্টাফ রিপোর্টার::
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষায় হাওর ও নদী খনন এখন অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় মিঠাপানির মাছের বৈচিত্র আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর মাছ উৎপাদনের জন্য জলাশয়ে কীটনাশক বা অ্যান্টিবায়েটিকের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। পাশাপাশি হাওরের কৃষিকে বালাইনাশকমুক্ত করতে হবে। পুরোপুরি মুক্ত না করা গেলেও অবশ্যই এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘হাওরের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক এক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মত বিনিময়সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শায়লা ফেরদৌস, আব্দুর সাত্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামসুল করিম, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু প্রমুখ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরো বলেন, সরকার হাওরাঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জন্য প্রণোদনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। হাওরের জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ‘অভয়াশ্রম’ গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি হাওরে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারে সরকার আরো কঠোর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ হাওরই সিলেট অঞ্চলে অবস্থিত। এই হাওর শুধু মাছ নয়, গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণিসম্পদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাওর ঘিরে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার।
টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন নিয়ে তিনি বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি রামসার সাইট। এখানে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। টাঙ্গুয়ার বৈচিত্র নষ্ট করে পর্যটন করা উচিত নয়। হাওরকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।