মো. অলিউর রহমান:
সুনামগঞ্জ: সরকারি হাসপাতালের বিনামূল্যে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সুনামগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গরিব রোগিরা হাসপাতালে আসলেও বিনামূল্যে ওষুধ পায় না, অথচ কোটি কোটি টাকার ওষুধ স্টোরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এ ধরনের অঘটন ঘটে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
সদর হাসপাতালে পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান স্টোরে থাকা বিপুল ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ না করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার বদলির পর বিষয়টি সামনে আসে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের মধ্যে ছিল এন্টিবায়োটিক, শিশুর ওষুধ, গ্যাসের ওষুধসহ অন্তত ১২ ধরনের ওষুধ। এদের মেয়াদ শেষ হয়েছে এপ্রিল, জুন ও ৩১ আগস্টে।
হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় দেড় হাজার রোগি, ইনডোরে ৩-৪ শত রোগি সেবা নেন, কিন্তু তারা সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২৬ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্টোরের যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্রে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছিল।
স্থানীয়রা মনে করছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্টোরে জমিয়ে রাখা হয়েছিল অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী বলেন, “আমরা গরিব। অসুখে হাসপাতালে আসি, কিন্তু ওষুধ পাই না। কোটি কোটি টাকার ওষুধ নষ্ট হয়েছে, এর দায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, “মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ১৫ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।