স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে অব্যাহতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেলা জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও আইনি বাধা থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে বালু তোলা হচ্ছে নদী থেকে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বেলা জানায়, ২০১০ সালে দায়ের করা একটি রিট মামলার ভিত্তিতে উচ্চ আদালত যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আদালত আরও একটি আদেশে যেকোনো ধরনের বালু ও পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে। এছাড়াও, বিদ্যমান বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি।
৭ আগস্ট বেলার একটি পর্যবেক্ষণ দল যাদুকাটা নদী এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায়, নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও পাম্প বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, জলজ প্রাণী, আশপাশের কৃষিজমি এবং বসতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেলা অভিযোগ করে, ২০০৫ সালের পর থেকে ওই নদীতে কোনো বৈধ ইজারা না থাকলেও “বালুমহাল-১” ও “বালুমহাল-২” নামে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
বেলার মতে, সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী এই কার্যক্রম পরিবেশ, নদী ও কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে চলা এই উত্তোলন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এই বিষয়ে ভূমি সচিব, পরিবেশ সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ১৪ জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে বেলা।
বেলার দাবিগুলো হলো: যাদুকাটা নদী থেকে সব ধরনের বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নদী দখল ও উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।