1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
`কাচইরা’ বছরে সর্বনাশ হাওরে চেটেপুটে খেয়ে সুনামগঞ্জ ছাড়লেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার! সুনামগঞ্জে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত নিজের স্বার্থের জগতে ড. ইউনূসের যাদুর ছোঁয়া: দেড় বছরে তার যত বেআইনি কারবার! হাওরে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হওয়ার পথে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধান সুনামগঞ্জের ৫ আসনে কেন্দ্র ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির ৫ প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী নির্বাচন সামনে রেখে এমএফএস লেনদেনে কড়াকড়ি, ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ ৯৬ ঘণ্টা (আরও জানুন) ব্রিটিনে সেরা বাংলাদেশি সাংবাদিক নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জের মাসুম মালয়শিয়ায় বাংলাদেশের ছয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুত্রা মালয়েশিয়া ইউনিভার্সিটির ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন বিশ্বম্ভরপুরে র‌্যাবের অভিযানে মদ ও ভারতীয় কসমেটিক্স জব্দ

তাহিরপুরে মাঠ ফিরে পেল গারোরা: আগের মতো মিলেমিশে হবে খেলাধুলা

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০.১২ পিএম
  • ৪৩৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি::
নানা জটিলতা শেষে সামাজিক শালিস ও প্রশাসনের হস্থক্ষেপে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত খেলার মাঠ ফিরে পেয়েছে তাহিরপুর সীমান্তের উত্তরবড়দল ইউনিয়নের গারো সম্প্রদায়ের লোকজন। বড়গোপটিলায় ৭২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত গারো মাঠটি গারোদেরই থাকবে বলে ঘোষণা দিলেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। শনিবার দুপুরে গারো মাঠে গিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ এ ঘোষণা দেন। তবে মাঠে আগের মতো পরিচালনা কমিটির নির্দেশনায় আদিবাসী-বাঙালি দুই পক্ষই খেলাধুলা করবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আগের মতো খেলাধুলাসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে দুই পক্ষকেই যুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি করা হলে প্রশাসন কঠোর হাতে হস্থক্ষেপ করবে বলেও ঘোষণা দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
শনিবার দুপুরে গারো মাঠে তৃতীয় বারের মতো মাঠ নিয়ে শালিস বসে। বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, স্থানীয় উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর খোকন, এন্ড্রু সলোমার, যুবলীগ নেতা মাসুক মিয়া, শঙ্কর মারাক, রমেশ জুয়েল সলোমার, যথীন্দ্র মারাক, পরিতোষ চাম্বুগং, সুনীল দাজেল, যুবলীগ নেতা আব্দুল মোতালেব প্রমুখ।
বৈঠক শেষে সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। তিন মাঠ পরিচালনায় পরিচালনায় গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির নাম প্রকাশ করেন। ৯ জনের মধ্যে ৭জন থাকেব গারো সম্প্রদায়ের লোকজন এবং ২জন থাকবে সম্প্রতি টিলায় বসতি স্থাপনকারী ২ জন বাঙালি। সপ্তাহের ৫ দিন মাঠে গারোরা খেলবে, ২ দিন অন্যরা। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গারোদের মাঠ ফিরিয়ে দেবার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শালিসে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি এই মাঠ প্রতিষ্ঠাকারী গারো সম্প্রদায়ের লোকজন। তাই এই মাঠ আপনাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এখন থেকে আপনারা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে আগের মতো খেলাধুলা করবেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে খেলাধুলাসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র সিদ্ধান্তে গারোরা খুশি হন। সিদ্ধান্ত মেনে নেন অন্যরাও।
উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, গারোদের প্রতিষ্ঠিত এই মাঠে কৈশরে আমিও এসে খেলেছি। মাঠটি আগেও গারোদের ছিল। এখনো তাদেরই আছে মাঠটি। সম্প্রতি যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল মাঠ বুঝিয়ে দিয়ে আমরা ভুলের অবসান ঘটিয়েছি। আগের মতো সবাই মিলেমিশে খেলবে। আমরা উপজেলা প্রশাসন মাঠের রক্ষণাবেক্ষনের জন্য সহযোগিতা করব।
প্রসঙ্গত ১৯৪৮ সনে জঙ্গল কেটে মাঠ প্রতিষ্ঠা করে খেলাধুলা, আদিবাসী দিবসসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন কড়ইগড়া, চানপুর, রাজাইরসহ সীমান্তের কয়েকটি গ্রামের ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর লোকজন। গত তিনমাস ধরে হঠাৎ করে মাঠ দখলের চেষ্টা চালায় বড়গোপটিলার কিছু যুবক। তারা গারো যুবকদের হুমকি ধমকিসহ সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলে আসছিল। এ নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বড়গোপটিলা গারো মাঠে শালিস বসে। ওই বৈঠকেও গারোদের মাঠ প্রতিষ্ঠার অবদানের কথা স্বীকার করেন শালিসকারীরা। শালিসে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বৃহষ্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ। ওই দিনও কোন নিস্পত্তি হয় নি।
মাঠ পরিচালনাকারী সুনীল দাজেল বলেন, আমরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ গণম্যান্যদের সিদ্ধান্তে খুশি।
উল্লেখ্য বড়গোপটিলার কতিপয় যুবক মাঠ দখলের চেষ্টা করলে এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর লোকজন মাঠ হারানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে নিরপেক্ষভাবে খোঁজ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ গারোদের প্রতিষ্ঠিত মাঠটি তাদের বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।


প্রিন্ট

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019-2024 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!