স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে অভাব অনটন ও অতিরিক্ত সন্তান লালন পালন নিয়ে স্ত্রীর সাথে মানসিক অশান্তির জেরে নিজের দুই সন্তানকে ঘুমের অষুধ খাইয়ে হাওরে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী। বৃহষ্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন স্ত্রী ফুলজান নেছা। উল্লেখ্য গত শুক্রবার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে দুই সন্তান মুহাদ্দিস আহমদ (৬) ও তুলনা বেগম (৪) কে সিলেট নিয়ে যান পিতা কামরুল হাসান। রবিবার সন্তানদের বাড়ি নিয়ে আসার পথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শান্তিগঞ্জের নোয়াগাওয়ে তুলনাকে ও সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে মোহাদ্দিসকে অচেনতন অবস্থায় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে নিজ বাড়ি দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুরে চলে আসেন কামরুল। গত মঙ্গল ও বুধবার দুই শিশুর লাশ হাওরে ভেসে ওঠে। গত বুধবার কামরুলের অসংলগ্ন কথা বার্তার কারণে স্থানীয়রা আটকে পুলিশে দিলে পুলিশের কাছে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে কামরুল।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ জানায়, পারিবারিক অভাব অনটনের সংসারে কামরুল হাসান গ্রামে গ্রামে ফেরি করে ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী ফুলজান নেছা (২৫) একে একে চারটি সন্তানের জন্ম দেন। অভাবের সংসার এবং চারটি শিশু সন্তানের ভরণ পোষণ ও লালন পালন নিয়ে স্বামী স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। এর জের ধরে সংসারে অশান্তি ছিল। যে কারণে অতীষ্ট হয়ে কামরুল তার দুই শিশু সন্তানকে নিষ্টুরভাবে হত্যা করেন। গত রবিবার বাড়িতে এসে ফেইসবুকে লাইভ দিয়ে জানান, সিলেট থেকে বাড়ি আসার পথে দুই সন্তান হারিয়ে গেছে। কিন্তু তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দিরাই থানা পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেন। দিরাই থানা পুলিশের কাছে বুধবার বিকেলেই দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন কামরুল। রাতেই তাকে দিরাই থেকে শান্তিগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়েছে। বৃহষ্পতিবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ থানায় ফুলজান নেছা বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. অলিউল্লাহ বলেন, সন্তানদের মা তার স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছি।