নিজস্ব প্রতিবেদক::
জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিশেষ এক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১,৪৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একযোগে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০৪টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
হাওর-অধ্যুষিত সুনামগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মোট ৬৭,৭৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৫৯,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী, যার মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন ৩০,৫৮৫ এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৮,৪১৫ জন।
পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি আগে থেকেই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জানানো হয়েছিল, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠান মেধা যাচাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য নিজস্বভাবে মডেল টেস্টও পরিচালনা করেছে। তবে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরাসরি জেলা প্রশাসন থেকে তৈরি ও বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষা চলাকালে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “মেধা যাচাইয়ের এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনায় প্রস্তুতি নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেকে মেধাবী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বিশেষ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে গোড়া থেকে কাজ করতে হবে। এজন্যই এই বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উৎসাহ দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই মডেল টেস্ট নিয়েছে এবং সকলে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেছে।”
সুনামগঞ্জে এই বিশেষ উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল গত বছর শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে ৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহার উদ্যোগে পরীক্ষা চালু হয়েছিল। জেলা প্রশাসক এই সফল উদ্যোগ দেখে তা পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলস্বরূপ বুধবার জেলা জুড়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেধা যাচাইয়ের বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।