1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০২:১৬ অপরাহ্ন

হাওরের ধান, কাটতে গেলেই ত্রাণ।। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক

  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০, ৯.০৪ এএম
  • ৮১৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি::
হাওরের বোরো ধান ক্ষেত এখন হলুদাভ। এক অন্যরকম গন্ধ ছড়াচ্ছে বিস্তৃত পাকা ধান ক্ষেতে। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে জমিতে ধান কাটতে আগ্রহ নেই স্থানীয় শ্রমিকদের। বাইরের শ্রমিকরাও গত দুই দশক আগ থেকেই আসছেন না। এ অবস্থায় পাকা ধান নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন হাওরের তিন লাখ বোরো চাষী। বছরের একমাত্র ফসলের এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে হাওরের কৃষক তাই চরম উদ্বিগ্ন। এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ হাওরের স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাইকিং করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ধানকাটার সুবিধার্থে হাওরের সকল বিদ্যালয়কে সামাজিক দূরত্ব মেনে রাতে শ্রমিকদের থাকতে স্কুল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়াও যারা হাওরে ধান কাটতে আসবেন তাদেরকে রিলিফের আওতায়ও আনা হবে এমন ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের এমন ঘোষণায় শ্রমিকরা ধান কাটতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন হাওরের কৃষক ও সুধীজন।
এদিকে দুর্যোগ মন্তণালয়ও হাওরের শ্রমিকদের ত্রাণের আওতায় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ও শ্রমিকদের সহায়তার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে হাওরের ফসল নিয়ে স্বয়ং উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাওরের প্রতি তার বিশেষ নজর রয়েছে। তাই হাওরের একমাত্র ফসল যাতে গোলায় তোলতে পারে এ জন্য ফসল রক্ষা বাধে সর্বোচ্চ বরাদ্দসহ নীতিমালা পরিবর্তন করে এই কাজে সরাসরি কৃষকদের যুক্ত করেছেন। ২০১৭ সালে হাওরডুবির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সুনামগঞ্জে ছুটে এসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অবস্থা সরেজমিন প্রত্যক্ষ করে সহায়তা দিয়েছেন। ওই সময় প্রায় ১ বছর হাওরের ১ লাখ ৮০ হাজার পরিবারকে দিয়েছেন মাসিক খাদ্য ও নগদ সহায়তা। ফসল বোনার সময় নীতিমালা বদলিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করে সার বীজ বিনামূল্যে দিয়েছেন। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরের প্রতি বিশেষ আন্তরিক।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে জেলায় এ বছর ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক হাওরে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর বোরো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। বিআর ২৮, ২৯ সহ হ্ইাব্রীড, উফশীসহ কিছু স্থানীয় জাতের ধানও আবাদ হয়েছে। এবার ৫২টি হাওরের ফসলরক্ষার জন্য ৬৪০ কি.মি ফসলরক্ষা বাধ নির্মাণ, সংস্কার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সরকার প্রাথমিক ৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৩২ কোটি টাকার মোট বাজেট চেয়েছে। এখন হাওরের ফসল কাটার মওসুম। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে প্রতিটি হাওরে একযোগে ধানকাটার ধুম পড়বে।
জানা গেছে হাওরের উদ্বিগ্ন কৃষকের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ গত ৭ এপ্রিল হাওরাঞ্চলের কৃষি যন্ত্রপাতি (ধানকাটা মেশিন, মাড়াই, কাঁচি) মেরামত করার জন্য ওয়ার্কসপ খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। ওইদিনই তিনি হাওরের শ্রমিকদের ধানকাটার সময় স্থানীয় স্কুল থাকার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক ধানকাটা শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে তাদেরকে ত্রাণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আলাদা করে গণবিজ্ঞপ্তিও প্রচার করেছেন। এছাড়াও জেলার সকল বালু ও পাথর মহালে কাজ বন্ধ রেখে সেখানকার শ্রমিকসহ জেলার রিক্সাচালক, ভ্যান চালক, টেলাগাড়ি চালকসহ শ্রমজীবীদের ধান কাটায় পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও মাইকিং করে শ্রমিকদের ধানকাটার আহ্বান জানানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কৃষিবিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও হাওরের কৃষকের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ধানকাটা শ্রমিকদের তালিকা করতে চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দিয়েছেন।
জামালগঞ্জের কৃষক আন্দোলনের নেতা আকবর হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের তৎপরতা দেখছি। তিনি হাওরের ধান নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন তার তৎপরতায় প্রকাশ পেয়েছে। ধান কাটার শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে স্থানীয় স্কুল থাকার জন্য ব্যবহার এবং শ্রমিকদের রিলিফের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে শ্রমিকরা ডাবল সুবিধার আগ্রহে ধান কাটতে আগ্রহী হবেন। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে থাকতে হবে। মাঠের কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষকের কোন সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওরের প্রতি ভীষণ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই জেলা একফসলি জেলা। ফসলের জন্য বড় বাজেট দিয়ে বাঁধের কাজও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ফসল তোলার মওসুম। কিন্তু করোনার কারণে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই শ্রমিক সংকট প্রকট হয়েছে। এই অবস্থায় ধানকাটার শ্রমিকদের রাতে থাকার ব্যবস্থার জন্য স্কুল ব্যবহারের পাশাপাশি আমরা তাদেরকে ত্রাণ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই কৃষকের শ্রমঘামের ফসল গোলায় উঠুক। তাছাড়া দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেও হাওরের ধানকাটা শ্রমিকদের সহায়তার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!