1. haornews@gmail.com : admin :
  2. editor@haor24.net : Haor 24 : Haor 24
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দিরাইয়ে পুলিশের অভিযানে হত্যা মামলার আসামিসহ আটক ১০ কৈতক হাসপাতালের জায়গা দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মধ্যনগরে পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে আমানত-সঞ্চয়ের টাকা না দেওয়ার অভিযোগ সুনামগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন! ঘরে ঘরে বর্জ্য সংগ্রহে নতুন উদ্যোগ, ছাতকে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ গাড়ি জামালগঞ্জে অটো রিক্সা উল্টে যাত্রী নিহত শাল্লায় কৃষক তালিকায় অনিয়ম: ইউপি কার্যালয় ঘেরাও করে বঞ্চিত কৃষকদের বিক্ষোভ ​ স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ `কাচইরা’ বছরে সর্বনাশ হাওরে চেটেপুটে খেয়ে সুনামগঞ্জ ছাড়লেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার!

শৈশব স্মৃতি।। মো. তারিকুল ইসলাম

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯, ৫.১২ এএম
  • ৩৯১ বার পড়া হয়েছে

সেই যখন সিক্স কিংবা সেভেনে পড়ি তখন আজকালকার মত এতো বেশী দৈনিক পত্রিকা ছিল না । যদ্দুর মনে পড়ে দৈনিক ইত্তেফাক কিংবা দৈনিক বাংলার মত খবরের কাগজগুলো পাঠকরা বেশী পড়তেন । সুনামগঞ্জ তখনও জেলা হয়নি । ভাটিবাংলার এ মহকুমা শহরটিতে খবরের কাগজ বিকেল পাঁচটার আগে কখনই পৌছত না । দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রায়ই বাসী খবর পড়তে হতো । গোটা শহরে হাতে গুনা কয়েক বাসায় হকার নিয়মিত খবরের কাগজ নিয়ে যেত । আর খবরের কাগজ পড়ার আরেকটা নিশ্চিত স্থান ছিল আমাদের স্কুল -সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় । নাইন এবং টেনের ক্লাসরুমের বিভাজনকারী যে প্রবেশপথ সেখানে বুক সমান উচু দুটি টেবিলের একটিতে দৈনিক ইত্তেফাক আর অপরটিতে The Observer পিন দিয়ে সাটা থাকত । দৈনিক সমাবেশের আগে কিংবা মধ্যাহ্ন বিরতিতে চলত খবর পড়া কিন্তু অন্যভাবে বলা যায় খবর গেলা । আমরা খবরসহ অন্যান্য প্রবন্ধ নিবন্ধ পড়ছি কিনা সেদিকেও নজর ছিল আমাদের পিতৃসম শিক্ষকদের । তাই খবর পড়া কেবলমাত্র হেড লাইন পড়া ছিল না । যে খবর আমরা পড়তাম তা ভালভাবেই পড়তাম । খবর পড়ার সাথে খবর শুনারও একটা ব্যাপার ছিল । খবর শুনা হতো রেডিওতে । সকাল সাতটায় পাঁচ মিনিটের বাংলা খবর এবং পরবর্তী পাঁচ মিনিট একই খবর ইংরেজিতে । মনোযোগ দিয়ে শুনতাম । কারণ খবর শুনে আমাদের ইংরেজি শব্দ ভান্ডার সমৃদ্ধ হতো, উচ্চারণ সচেতনতা বাড়ত এবং নিজেরা ভুলভাল হলেও ইংরেজি বলার চেষ্ঠা করতাম । সিনিয়ররা ভুল ধরিয়ে দিতেন । এতে কিছুটা হলেও ইংরেজি শেখা হতো । সেইসাথে বিবিসি কিংবা ভয়েস অব এ্যামেরিকার খবর প্রায় সবার কাছে প্রিয় ছিল । এবং খবর পাঠকরা রীতিমত নায়কোচিত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন । সরকার কবির উদ্দিন, রোকেয়া হায়দার , সিরাজুল মজিদ মামুন , আফজাল এইচ চৌধুরী এবং ফারাহ কবিররা ছিলেন আইকন নিউজ কাস্টার ।
ইংরেজি খবর নিয়ে আমাদের এক বন্ধুর বলা মজার গল্পটি এরকম-
ইংল্যান্ডগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি প্নেনে ভ্রমন করছিলেন দুই বন্ধু । এয়ার হোস্টেস তাদের একজনকে ইংরেজি খবরের কাগজ দিলে সে ইংরেজি জানেনা এটা মহিলাকে বুঝতে দিতে তার অহমে বাঁধল । তাই খবরের কাগজটি হাতে নিয়ে পড়ার ভান করলো । কিন্তু কাগজটি যে সে উল্টো করে ধরেছে সেটা খেয়াল করল না । ফলে সবকিছু উল্টে গেল-অক্ষর, শব্দ, ছবি….কাগজে যা আছে সব ।
অপর বন্ধু খবর পড়ুয়া বন্ধুর মিথ্যা বাহাদুরিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে চিচিংফাঁক করতে বলল-তা কেমন খবর পড়লি বলনা বন্ধু ।
খবর পড়ুয়া কি বলবে তা ভেবে একটু ভড়কে গেল । তারপর ভাবল ও যেমন ইংরেজি জানেনা ওর বন্ধু তোও তেমনি ইংরেজি জানেনা । তাই একটা কিছু বললেই হবে । ও কাগজটির দিকে তাকাল এবং প্রথম পৃষ্ঠার এক জাহাজের উল্টানো ছবি দেখে বলল- খবর তেমন ভাল নয় । একটা জাহাজ উল্টে গেছে ।
প্রশ্নকারী বন্ধুটি ইংরেজি না জানলেও এটা বুঝেছিল তার বন্ধুটি খবরের কাগজ উল্টো করে ধরেছে । তাই ঝট করে বলল-কাগজটি ঠিক করে ধর । জাহাজটি আবার ভেসে উঠবে ।
আমাদের বাসায় আমার মেজচাচা এডভোকেট আব্দুল আউয়াল এবং আমার বড় ভাইয়েরা বাংলা ও ইংরেজি উভয় ধরণের খবরের কাগজ পড়তে আমাকে উৎসাহিত করতেন । রাতে খাবার টেবিলে বসে চলত ঐদিন দেশে বিদেশে কি ঘটেছে তা নিয়ে আলোচনা ।
সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিচিত্রা এবং রোববার । আমার প্রয়াত মেঝভাই নজরুল ইসলামের হাত ধরে শুরু হয় আমার ম্যাগাজিন পড়া । মেজভাই তখন কলেজে পড়তেন । বাম রাজনীতি করতেন । স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন । সেই সাথে প্রচ্ণ্ড বাস্তববাদী মানুষও ছিলেন । প্রথম প্রথম বিচিত্রা পড়ার অনুমতি পেতাম না । তবে লুকিয়ে আলাউদ্দিনের মিস্টির স্পন্সরশিপে রনবীর কার্টুন টোকাই দেখতাম । টোকাইয়ের কার্টুনে রফিকুন্নবী সমাজ বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলতেন নানাভাবে । একটা কার্টুনের কথা এখনও মনে পড়ে । স্যুটেট বুটেড এক ভদ্রলোক টোকাইকেই জিজ্ঞেস করছেন -রোজা রাখা খুব কষ্টের , নারে টোকাই?
-আমাগো আবার কষ্ট কি ? আপনারা রোজা রাখেন তিরিশটা আর আমরা রাখি তিন শ পয়ষষ্টিটা ।
বিচিত্রার আর একটা অংশ ছিল জীবন যেখানে যেমন । নামে বেনামে বিভিন্ন জন তাঁদের হৃদয়স্পর্ষী জীবনাভিজ্ঞতা বর্ণনা করতেন । তন্ময় আপ্লুত হয়ে সে কাহিনীগুলো পড়তাম।
ভ্রমন কাহিনী কিংবা প্রতিবেদনও থাকত বিচিত্রায় । সার্ক সামিট উপলক্ষে মালদ্বীপ ভ্রমনকারী তখনকার এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মালদ্বীপের সমুদ্র সৈকতে এক কিশোরীকে একা ঘুরতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন-তুমি একা এত রাতে সৈকতে ঘুরছ , তোমার কি ভয় করছে না?
-কিসের ভয় ? -পাল্টা প্রশ্ন ছিল মেয়েটির
যে মেয়ে জানেনা ভয়টা কিসের , লেখক মেয়েটির কাছে সে ভয়টি আর ব্যাখ্যা করতে যাননি। সে মুহু্র্তে আমার কিশোর মনে এক আশা যেন দোলা দিচ্ছিল । সেটা হচ্ছে আমাদের সমাজও যেন হয় নারীর এমনই অভয়াবাস ।
লেখক: উপাধ্যক্ষ, বিয়ানীবাজার, সরকারি কলেজ।


প্রিন্ট

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
themesbazarhaor24net
© All rights reserved © 2019-2024 haor24.net
Theme Download From ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!