স্টাফ রিপোর্টার::
পুলিশ কর্তৃক কুড়িয়ে পাওয়া এক এতিম কন্যার ধুমধাম বিয়ে দিয়েছে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবার। লাল বেনাড়শি শাড়িতে সজ্জিত তরুণীর চোখে মুখে ছিল নতুন স্বপ্নের হাতছানি। বর ও তার পরিবারের হাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ তুলে দিয়েছেন তাকে। এসময় শিশু পরিবারের এতিম শিশুরাও ছিল উৎফুল্ল। ২৬ অক্টোবর সোমবার সুনামগঞ্জ শিশু পরিবারে এই বিয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুধীজন পরিচয়হীন তরুণীর দায়িত্ব নেওয়ায় বরের পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাও ইউনিয়নের নিজগাও গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. মোজাহিদুল ইসলামমের সাথে বিয়ে হয়েছে শারমিন আক্তার নামের ওই তরুণীর। স্কুলে পড়ালেখার সময় বরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। পরিচয় থেকে পরিণয়ে রূপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এখন পরিণয় সুখি পরিবারে পৌছেছে।
সুনামগঞ্জ শিশু পরিবার (সরকারি বালিকা এতিমখানা) সূত্রে জানা গেছে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে ছাতক থানা পুলিশ শারমিন আক্তার নামক এক শিশু কন্যাকে কুড়িয়ে পায়। ওই সময় সে শধু তার নাম বলতে পারতো। পরে ওই বছরের ১১ আগস্ট তাকে সিলেট বাগবাড়িস্থ সেইফ হোমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে শ্রীমঙ্গল শিশু পরিবারে স্থানান্তর করা হয়। শ্রীমঙ্গল থেকে ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই তাকে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে স্থানান্তর করা হয়। সরকারি শিশু পরিবার তাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করিয়েছে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ শিশু পরিবারে থাকার সময় নিয়মিত স্কুলে যেতো শারমিন। তখন মোজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এই পরিচয় থেকেই পরিণয়। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে মোজাহিদুল ও তার পরিবার শিশু পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের ব্যবস্থা করে। মোজাহিদুল তার বাবার ছোট্ট একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করেন।
সোমবার মোজাহিদুল ইসলামও বিয়ের সজ্জিত পোশাকে ছিলেন উৎফুল্ল। প্রেমের মানুষটির সারাজীবনের দায়িত্ব নিতে পেরে তিনিও খুশি। মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তার কষ্টের আখ্যান জেনেই আমি বিয়ে করেছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালো বুঝি। আমার পরিবারও তার কথা শোনার পর তারা বিয়েতে অমত করেননি। সে শুধু আমাকে পায়নি আমার পরিবারকে তার পরিবার হিসেবে পেয়েছে। মোজাহিদুল সবার কাছে তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন।
এদিকে বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান, সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক নিবাস চন্দ্র দাস, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা এটিএম হেলাল, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক নিবাস চন্দ্র দাস বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা শিশু পরিবার একজন অজ্ঞাত তরুণীকে ভালো একটি পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরেছি। আশা করি মেয়েটি জীবনে সুখী হবে। আমরাও তার খোজ খবর রাখবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : শামস শামীম, কার্যালয়: লৌকিক এন্ড শৌভিক ভবন, পাসপোর্ট অফিস রোড, মল্লিকপুর, সুনামগঞ্জ। মোবাইল: +৮৮০১৯১২১৩৪৯১৭, ইমেইল: shamsshamim1@gmail.com
© All rights reserved © 2019-2026 haor24.net