বিশেষ প্রতিনিধি::
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। কিংবদন্তি এই বাউল সাধক ও গণমানুষের শিল্পীকে গানে গানে স্মরণ করতে তাঁর জন্মভিটা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধলে নিজ বাড়িতে স্বজন ও শীস্যরা আয়োজন করেছেন নানা কর্মসূচি। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের পাশাপাশি রাতে বসবে বাউল গানের আসর। এতে তাঁর শিষ্য, ভক্ত ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাউলশিল্পীরা গান ও সুরের মাধ্যমে স্মরণ করবেন প্রখ্যাত এই বাউল মহাজনকে।
শাহ আবদুল করিম শুধু একজন বাউলশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি গানকে মানুষের কথা বলার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর গানে উঠে এসেছে শ্রমজীবী ও সর্বহারা মানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ-বঞ্চনা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
গ্রামীণ জনপদের সহজ-সরল ভাষায় রচিত তাঁর গান মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়েছে। প্রেম, বিরহ ও আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টিতে সমাজের বৈষম্য, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাওয়া যায়। ফলে শাহ আবদুল করিমের গান শুধু বিনোদনের বিষয় হয়ে থাকেনি; তা হয়ে উঠেছে গণমানুষের জীবন ও সংগ্রামের দলিল।
মৃত্যুর ১৭ বছর পরও তাঁর গান একইভাবে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের কাছে শাহ আবদুল করিম আজও গভীর আবেগ ও ভালোবাসার নাম।
এদিকে শাহ আবদুল করিমের অন্যতম শিষ্য ও ভক্ত বাউল লাল শাহের উদ্যোগে আজ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলসেও অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ অনুষ্ঠান। সেখানে আলোচনা ও গানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে বাউল সম্রাটকে।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্ম নেওয়া শাহ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরও তাঁর সৃষ্টি তাঁকে বাংলার লোকসংগীতের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : শামস শামীম, কার্যালয়: লৌকিক এন্ড শৌভিক ভবন, পাসপোর্ট অফিস রোড, মল্লিকপুর, সুনামগঞ্জ। মোবাইল: +৮৮০১৯১২১৩৪৯১৭, ইমেইল: shamsshamim1@gmail.com
© All rights reserved © 2019-2026 haor24.net